Saturday, July 7, 2018

উপন্যাস (হ্যামিলনের বাশিওয়ালা)

হ্যামেলিনের বাঁশি-ওয়ালা রূপকথার গল্পের নেপথ্য উপাখ্যান (সংগ্রহীত) ছোটবেলায় পড়া অসংখ্য রূপকথার গল্পের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় গল্প ছিল “হ্যামেলিনের বাঁশি-ওয়ালা” বা “পাইড পাইপার”৷ গ্রিম ভ্রাতৃদ্বয়ের (ইয়াকপ গ্রিম এবং ভিলহেল্ম গ্রিম) লেখা হৃদয়বিদারক গল্পটি নিছক রূপকথা হিসেবে বহুল প্রচলিত থাকলেও এই উপাখ্যানের নেপথ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক কিছু ব্যাখ্যা৷ “যা রটে তার কিছু হলেও ঘটে” এমন যুক্তির উপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নানা-জনের নানা মতবাদ৷ জার্মানির হ্যামেলিন শহরের গির্জায় আঁকা ছবি থেকেই প্রথম এ ঘটনার কথা জানতে পারে মানুষ।গল্পটি কমবেশি সবারজানা থাকলেও পটভূমি জানার আগে সংক্ষেপে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক –গল্পের প্রেক্ষাপট ১২৮৪ সালের জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যের হামেলন/Hameln (জার্মান উচ্চারণ) বা হ্যামেলিন/Hamelin (ইংরেজি উচ্চারণ ) শহর৷ ঘটনার সূত্রপাত হয় ইঁদুরের অত্যাচার থেকে৷ হঠাৎ করেই গোটা শহরে ইঁদুর ছড়িয়ে পড়ায় প্লেগ রোগ প্রকোপ আকার ধারণ করে৷ উপায়ান্তর না দেখে শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সর্বসম্মতিক্রমে ঘোষণা দেন, শহরকে ইঁদুরের হাত থেকে যে বাঁচাতে পারবে তাকে মোটা অঙ্কের টাকা পুরষ্কার দেওয়া হবে৷ সেই ঘোষণায় সাড়া দিয়ে শহরে এসে হাজির হয় রঙ-বেরঙের পোশাক পড়ারহস্যময় এক বাঁশি-ওয়ালা৷ মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বাঁশি-ওয়ালা কথা দেয় বাঁশির মায়াবী সুরে সে শহরকে ইঁদুর-মুক্ত করতে পারবে৷ কেউবিশ্বাস না করলেও অগত্যা রাজি হয়৷ বাঁশি-ওয়ালা বাঁশি বাজাতে শুরু করলে সুরের মূর্ছনায় আকৃষ্ট হয়ে সব ইঁদুর গর্ত থেকে বের হয়ে আসে এবং তার পিছু পিছু ছুটতে থাকে৷ অতঃপর সে সব ইঁদুরকে নিয়ে গিয়ে ওয়েজার নদীতে ফেলে দেয়৷ খরস্রোতা নদীতে তলিয়ে যায় শহরের সব ইঁদুর৷বিনিময়ে সে তাঁর প্রাপ্য টাকা দাবি করলে মুখ ফিরিয়ে নেয় শহরের মেয়র এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা৷ প্রতারিত বাঁশি-ওয়ালা তখনকার মতো রেগে চলে গেলেও কিছুদিন পর সেন্ট জন-পল দিবসের (ধর্মীয় উৎসব) দিনফিরে আসে আবার৷ এইদিন অবশ্য তার পরনে রঙ-বেরঙের কাপড় ছিল না৷ এসে আবার তাঁর মায়াবী সুরের জাদুর সৃষ্টি করে৷ তবে এবার বাঁশির সুরে বেরিয়ে আসে শহরের ছোট ছোট শিশুরা৷ ক্ষুব্ধ বাঁশি-ওয়ালার মোহনীয় বাঁশির টানে শহরের ছোট ছোট ১৩০ জন শিশু তার পিছনে ছুটতে ছুটতে একসময় হারিয়ে যায়৷ শিশুদের মধ্যে তিনজন দল থেকে পিছিয়ে পড়েছিল। তারাই নাকি ফিরে এসে এসব কথা জানায় শহরবাসীকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শিশু তিনটির একজন খোঁড়া, অন্যজন দৃষ্টিহীন এবং আরেকজন বধির হওয়ায় বাঁশিওয়ালার গন্তব্য সম্বন্ধে সঠিক তথ্য আর জানা যায়নি৷ মোটামুটিভাবে গল্পের সারমর্ম হচ্ছে এটাই৷এই ঘটনাটির সত্যতা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। অনেকে ঘটনাটিকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন, অনেকেই যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে চান আবার একে নেহাতই গল্প বলে উড়িয়ে দেওয়ার লোকের সংখ্যাও কম নয়। মতভেদ আছেঅনেক এই জার্মান রূপকথা নিয়ে৷ কেউ বলেন, শহরের বাইরে কোপেনবার্গ পর্বতের মাথার গুহায় ঢুকে গিয়েছিল সে। কেউ বলেন, ইঁদুরের মতো শিশুদেরও সলিলসমাধি হয় আরেকটি মতবাদ অনুসারে বাঁশিওয়ালা যখন শিশুদের নিয়ে রওনা দেয়, তখন শহরের কারোরই কিছু করার ছিল না। কারণ সবাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বাঁশির সুর শুনছিল। স্বয়ং মেয়রের মুগ্ধতাও বাঁশির সুরেই নিবিষ্ট ছিল। বাঁশিওয়ালা মায়াবী সুরের টানে বাঁশি বাজাতে বাজাতে এগিয়ে যাচ্ছিল আর শিশুরা তাঁকে অনুসরণ করছিল। একসময় বাঁশিওয়ালা শিশুদের নিয়ে হ্যামেলিন শহরের পাঁচিল বেয়ে একটা পাহাড়ের দিকে গেল। এরপর পাহাড়টি হঠাৎ দু’ভাগ হয়ে গেল। আর তখন সে ১৩০ জন শিশুদের নিয়ে আজীবনের জন্য সেই পাহাড়ের ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেল। সেই রহস্যময় বাঁশিওয়ালাকে কিংবা শিশুদের কাউকে আর কখনোই দেখা যায়নি। কিন্তু সকল মতবাদই একটি বিষয়ে একমত হয় সেটি হচ্ছে ঘটনার সময়কাল৷ ১২৮৪ সালের ২৬ জুন এই মর্মস্পর্শী ঘটনার অবতারণা হয়৷১৩০০ সালের দিকে শহরের চার্চে স্টেইন্ড-গ্লাসের জানালায় ১২৮৪ সালের করুণ এই ঘটনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল৷ জানালাটি বানানোর উদ্দেশ্যই ছিল শিশুদের স্মরণ করা। ১৬৬০ সালে জানালাটি ধ্বংস হয়ে যায়৷ পরবর্তীতে ইতিহাসবিদ হ্যান্স ডবারটিন জানালাটির একটি আধুনিক রূপ দিয়ে পুনঃনির্মাণ করেন। সেখানে দেখা যায় রঙ-বেরঙের কাপড় পরিহিত বাঁশিওয়ালা আর সাদা পোশাকে শিশুদের ছবি৷ শহরে রক্ষিত ১৩৮৪ সালের প্রাচীন নথিতেও উল্লেখ আছে- “প্রায় ১০০ বছর হল আমাদের সন্তানেরা আমাদের ছেড়ে বিদায় নিয়েছে!দীর্ঘদিন অমীমাংসিত রহস্যের বিস্তর গবেষণা হয়েছে। এমনকি হ্যামেলিন শহরের পৌরসভায় রাখা কাগজপত্র তন্নতন্ন করে খোঁজা হয়েছে কোনো সত্যতা আছে কি-না তা জানার জন্য। কিন্তু সেখানে এরকম কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে এটি সত্যি কাহিনী হিসেবে দাবি করেনকেউ কেউ৷ কাহিনীটি হচ্ছে এরকম, জার্মানির হানোফার শহরের ৩০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত হ্যামেলিন শহরের ছেলেমেয়েদের ১২১২ সালে নিকোলাস নামক একজন ছেলে জেরুজালেম নিয়ে যাবার কথা বলে প্রলোভন দেখায়৷ জেরুজালেম হল পুণ্যভূমি। সে তাদের কাছে এক রহস্যময় বর্ণনা দিয়ে বলেছিল তারা যখন ভূমধ্যসাগরে পৌঁছুবে, তখন সাগর শুকিয়ে যাবে।তারা হেঁটে তা পাড়ি দিতে পারবে৷ এভাবে সে প্রচুর ছেলেমেয়েকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু পরে তাদের আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি। গবেষকরা বলেন, নিকোলাস ছিল ছেলেধরার দলের চর। ঐ সমস্ত শিশুকে সে মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রি করে দিয়েছিল। এই ঘটনার সাথেই রূপকথার গল্পটিরমেলবন্ধন করার চেষ্টা করা হয়৷প্রাচীন গবেষণাপত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য থেকে অনেকেই ধারনা করে কোন অজানা কারণে শহরের সমস্ত শিশু মৃত্যুবরণ করেছিল, হয়ত বা মরণব্যধি “ব্ল্যাক ডেথ” বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে-ভূমিধ্বস বা পাথর-ধ্বসে। অবশ্য পরে ব্ল্যাক ডেথের ধারনার অবসান ঘটে কারণ ইউরোপে ১৩৪৮ সালের দিকে প্লেগ মহামারী আকারধারণ করে৷ আবার এমনও আশঙ্কা করা হয়, কোন পরিব্রজ্যা হয়তো ফুসলিয়েকোমলমতি শিশুদের নিয়ে গিয়েছিল ধর্মযুদ্ধ ক্রুসেডে অংশ নেবার জন্য, আর ডোরাকাটা পোশাকের বাঁশিওয়ালা ছিল মৃত্যুর প্রতীক৷এই রকমএকটি রহস্যময় ঘটনা ঘটেছিল ১৪৫৮ সালে। জার্মানির সোয়াভিয়া অঞ্চলের একটি শহরের নাম হাল। সেই শহরের ৮-১২ বছরের শিশুদের মধ্যে হঠাৎ করেএক ধরনের উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেল। তারা হঠাৎ করেই দলে দলে তারা ফ্রান্সের মিশেল নামের এক তীর্থ স্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল৷ সেখানে আছে একটা মঠ। বয়স্করা এ ব্যাপারে বাধা দেবার চেষ্টা করলেন।এতে ছেলেমেয়েদের অধিকাংশ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন বাধ্য হয়ে শিশুদের এই মহাপ্রস্থান মেনে নেন অভিভাবকেরা। ১৫৫৬ সালে হঠাৎ শোনা যায়, বংশীবাদক আসলে ছিল স্বয়ং শয়তান। অন্য একটি গবেষণায় প্রকাশ পায় গল্পের আদিরূপে ইঁদুরের কোন অস্তিত্বই ছিল না, ১৫৫৯ সালে জনৈক ব্যক্তি গল্পে রঙ-চঙ মাখিয়ে এক নতুন মাত্রা দিতে এর সংযোজন ঘটায়৷ কালের বিবর্তনে আধুনিক যুগে এসে কেউ কেউ বলেছেন বাঁশিওয়ালা আসলে ছিল এলিয়েন, কোপেন পাহাড়ের আড়ালে রাখা মহাকাশযানে করে শিশুদের নিয়ে গিয়েছিল নিজের গ্রহে৷বর্তমানে হ্যামেলিন শহরে এ সংক্রান্ত একটি জাদুঘর রয়েছে। ওই জাদুঘরে সঞ্চিত পঞ্চদশ শতাব্দীতে লেখা কয়েকটি বইয়ে এ রহস্যময় কাহিনীর বর্ণনা রয়েছে। ফ্রাউ ভন লিউড নামের তেরো বছরের এক বালক নিজেকে প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে সেখানে বলে যে, লোকটির (বাঁশিওয়ালা) বয়স আনুমানিক ছিল ৩০। খুব সুদর্শন দেখতে। তার বাঁশিটি ছিল রুপোর তৈরি।হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালার গল্পেইঁদুর দ্বারা আক্রান্ত শহরের কথা রয়েছে। মধ্যযুগে ইউরোপে বুবনিক প্লেগ-রোগ ভয়াবহরুপে দেখা দেয়। তখন ইঁদুর ধরার জন্য এক বিশেষ লোক দেখা যেত। অবশ্য তারা বাঁশি বাজিয়ে ইঁদুর ধরত নাকি, তা নিয়ে সন্দেহ আছে৷ বৈজ্ঞানিক ধারনা মতে, হাই ফ্রিকুয়েন্সির শব্দতরঙ্গ দিয়ে অবশ্য ইঁদুরকে আকৃষ্ট করা যায়৷হ্যামেলিনের জাদুঘরে একটি প্রাচীন টিনের বাঁশি রাখা আছে। প্রাচীনকালে ইঁদুর ধরিয়েরা এ ধরনেরবাঁশি ব্যবহার করত।ইতিহাস থেকে আরও জানা যায়, ১২৮৪ সালে হ্যামেলিনে দুটি ঘটনা ঘটে। প্লেগ ছাড়াও অন্যটি হচ্ছে নাচুনে রোগ। এক বিশেষ ধরনের খাদ্যের বিষক্রিয়ায় এ রোগ দেখা দেয়। এতে রোগী ঘন্টার পর ঘন্টা নাচতে থাকে। লাল রঙ তাদের আকৃষ্ট করত খুব। সাধারণত ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাই এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। তখন লাল রংয়ের সঙ সেজে সেই বাঁশিওয়ালা এ সব রোগাক্রান্ত ছেলেমেয়েদের নিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। মূলত এত এত মতবাদের পরও “হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালা” রূপকথাটি কোন ঘটনার উপর ভিত্তি করে রচিত হয় তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া সম্ভব হয়নি৷তবে ইতিহাস যাই হোক, ৮৫১খ্রিস্টাব্দে তৈরি এক ধর্মাশ্রমকে ঘিরে গড়ে ওঠা ছোট গ্রামই দ্বাদশ শতাব্দীতে এসে আস্তে আস্তে শহরে রূপ নেয়৷ প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যা নিয়ে গড়ে উঠা বর্তমান হ্যামেলিন শহরটি পর্যটকদের এক অন্যতম আকর্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে শুধুমাত্র রূপকথার বদৌলতেই৷ হ্যামেলিনে শহরে একটি স্থাপনা রয়েছে যার নাম “the rat catcher’s house” বা “ইঁদুর ধরা লোকের বাড়ি”। ১৬০২ সালে নির্মিত বাড়িটির দেয়ালে বিশ্ববিখ্যাত কাহিনীটির ছবি চমৎকারভাবে আঁকা আছে। শহরের একটি রাস্তার নামও রাখা হয়েছে বাঙ্গেলোসেন্ট্রাস যার অর্থ “street without drums.” বাংলায় বললে “বাজনা বিহীন রাস্তা”। এই রাস্তায় কোন ধরনের বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা নাচ-গান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ৷ রাস্তায় একটি কাঠের ফলকে খোদাই করা আছে ১২৮৪ সালের ২৬ জুন হ্যামেলিনের ১৩০ জন শিশুকে এক রংচঙা ব্যক্তি অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল যাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।তাছাড়া হ্যামেলিন শহরে বেড়াতেগেলেই নানা জায়গায় চোখে পড়বে বাঁশিওয়ালার ইঁদুর সমেত মূর্তি৷ আরও আছে পাইড পাইপার থিম রেস্তোরাঁ, পাইড পাইপার মনোপলি, আছে মুদ্রাও!হ্যামেলিন শহরের প্রতিটি রাস্তার মোড়েই দেখা যায় ‘স্যুভেনির’ বা স্মারকের দোকান। সেখানে সব রকম স্মারক অর্থাৎ কাপ, গ্লাস, টিশার্ট- সব কিছুর গায়েই রয়েছে বাঁশিওয়ালা গল্পের কোন না কোন চিহ্ন। ২০০৯ সালে শহরে এক ট্যুরিস্ট ফেস্ট আয়োজন করা হয় শিশুদের প্রস্থানের করুণ ঘটনার ৭২৫তম বার্ষিকীতে। প্রতি বছর ২৬ জুন পালন করা হয় “র্যাট ক্যাচার ডে!” কিন্তু রবার্ট ব্রাউনিং তাঁর “The Pied Piper of Hamelin” কবিতায় ঘটনারসময়কাল ১৩৭৬ সালের ২২ জুলাই উল্লেখ করায় আমেরিকায় ২২ জুলাই “র্যাট ক্যাচার ডে” পালন করা হয়৷ গ্রীষ্মের প্রতি সপ্তাহেই সেই রূপকথার উপর ভিত্তি করে মঞ্চনাটক অনুষ্ঠিত হয় শহরতলিতে৷ আর বিশেষবিশেষ দিনে মনোরঞ্জনের জন্য শহরময় হেটে বেড়ায় রহস্যময় এক আগন্তুক, পরনে থাকে রংচঙে আলখেল্লা আর হাতে সেই সুপরিচিত বাঁশি। এছাড়াও “বিয়ে বাড়ি” নামে ঐতিহাসিক একটি বাড়ি রয়েছে৷ ইট আর বালু দিয়ে নির্মিত এই বাড়িতে একসময় হ্যামেলিনবাসীরা নানা উৎসবের আয়োজন করতো কিন্তু এখন এখানে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়৷ প্রতিদিন সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে বাঁশিওয়ালার বাঁশির সুরে ৩৭ বার ঘণ্টা বাজানো হয়৷ এমনকি শহরে প্রতিদিন তিন বেলা করে পুতুল নাচের মাধ্যমে বাঁশিওয়ালার গল্প প্রদর্শন করা হয়৷“হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালা” গল্পটি গ্রিম-ভ্রাতৃদ্বয় উপকথার উপর ভিত্তি করেই লিখেন৷ এছাড়াও রচিত হয় নানান দেশে নানান ভাষায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস৷ রবার্টি ব্রাউনিং এর মতো বিখ্যাত আরও অনেক লেখকরাই “পাইড পাইপার” নিয়ে কাব্য রচনা করেন৷ এমনকি The Pied Piper of Hamelin নামে ১৯৫৭ সালে সিনেমাও নির্মিত হয়৷হ্যামেলিনের ইতিহাস অমীমাংসিত থাকলেও রূপকথার আদলে গল্পটি সমগ্র বিশ্বে শিশুদের কাছে রোমাঞ্চকর এক কাহিনী হিসেবে সমাদৃত হয়েছে , পাশাপাশিহ্যামেলিন শহরটির গ্রহণযোগ্যতাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে পর্যটকদের কাছে৷

মজার গল্প (মাইয়া সুবিধার না)

মজার গল্প

লিখেছেন Jerry

এক তরুণীর খুব শখ হলো কথাবলা পাখি কিনবে। খুঁজে খুঁজে তিনি কাঁটাবন গেলেন। একটি দোকানে খুব সুন্দর একটা তোতা পাখি দেখলেন। দোকানি: আসুন আপু! এ পাখিটা চমৎকার। কথা বলায় পটু। যা জিজ্ঞেস করবেন তার উত্তর ঝটপট দিয়ে দিবে। তরুণী: তাইনাকি! ওয়াও! সত্যি! আমি এমনটাই চাচ্ছিলাম। দোকানি: পরীক্ষা করে দেখেন আপু। এটা সব বুঝে নিজে থেকেই অনেক কিছু শিখে নেয়! আর উত্তর দেয়। বড়ই আশ্চর্য এ পাখি। অতপর তরুণী খুশি হয়ে পাখিটাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলঃ আচ্ছা আমাকে দেখে আমার সম্পর্কে কি মনে হয় তোমার? পাখিটা ঠাস করে বলে বসলঃ বেশি সুবিধার না, বাজে মাইয়া! তরুণীটি থতমত খেয়ে গেল। দোকানির দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ! রেগেমেগে দোকানদারকে অভিযোগ করল: ছিহ! এসব কী শিখিয়েছেন আপনার পাখিকে? দোকানদার পাখিটাকে ধরে এক বালতি পানিতে ডুবিয়ে দিল কয়েকবার। এরপর জিজ্ঞেস করলঃ আর খারাপ কথা বলবি? পাখিটা ভালো মানুষের মতো না না করে মাথা নাড়ালো। দোকানি: স্যরি! আপু, এবার জিজ্ঞেস করেন। তরুণীটি খুশি হয়ে আবার পাখিটাকে জিজ্ঞেস করেলোঃ আচ্ছা আমি যদি রাতে ঘরে একজন পুরুষ নিয়ে ঢুকি , তুমি কি মনে করবে?” পাখিটি বললোঃ তোমার স্বামী। তরুণী: যদি দুজনকে নিয়ে ঢুকি? পাখিটি বললোঃতোমার স্বামী আর দেবর! তরুণী: যদি তিনজনকে নিয়ে ঢুকি? পাখিটি বললোঃ তোমার স্বামী , দেবর আর ভাই । তরুণী বললোঃ যদি চারজনকে নিয়ে ঢুকি? পাখিটা দোকানদারকে চেঁচিয়ে ডাকলঃ ঐ মিয়া বালতি নিয়া আসো! আগেই কইছিলাম এই মাইয়া সুবিধার না, বাজে মাইয়া, বাজেমাইয়া...




নতুন নতুন মজার সব গল্প পড়তে
Banglagolpo.blogspot.com
সাথেই থাকুন

বাংলা ভূতের গল্প(ভুতু আমার সঙ্গে একটা ছবি তোলো)

গল্পটি লিখেছেন মোঃ জাফর ইকবাল
রাত ১১ টা। বাড়িতে পড়ার টেব্‌লে দুলে-দুলে বাংলা পড়ছিল ছ’বছরের একটি ছোট্ট মেয়ে। হঠাৎ তার মা মোবাইল নিয়ে এসে তাকে বললেন, ‘‘কথা বল, ফোনে।’’ ফোন ধরে অত্যন্ত সাবলীলভাবে ‘‘হ্যালো’’ বলল আর্শিয়া মুখোপাধ্যায়। যেন ফোনটা তার কাছে আসার কথা ছিল। প্রতিবেদক তার কাছে অচেনা। কিন্তু অচেনা কণ্ঠস্বরের প্রভাব বিন্দুমাত্র আঁচ ফেলেনি আর্শিয়ার গলায়। ‘হ্যালো’ বিনিময়ের পর মিষ্টি সুরেলা স্বরে সে প্রতিবেদককে জিজ্ঞেস করল, ‘‘কেমন আছ তুমি?’’ গত একমাস হল নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে আর্শিয়া। সিরিয়াল চলাকালীন যা হত না। জি ডি বিড়লা স্কুলে ক্লাস ওয়ানের ছাত্রী সে। এই এপ্রিলে ক্লাস টু হবে। ‘‘এখন মেয়ের পড়াশোনায় বেশ মন। রোজ স্কুল থেকে এসে প্রথমেই আমাকে বলে, মা, আজ এর সঙ্গে ঝগড়া করলাম, কাল ওর সঙ্গে ভাব করলাম, আজ এই খেলাটা খেলেছি। স্কুলের আন্টি আমাকে গুড দিয়েছে। এমন হাজারো কথা…’’ গলায় পরম তৃপ্তি আর্শিয়ার মা ভাস্বতী মুখোপাধ্যায়ের। সিরিয়াল চলার সময় প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া না হলেও মেয়ের পড়াশোনায় ফাঁক পড়তে দেননি ভাস্বতী। শ্যুটিংয়ের ফাঁকে আলাদা ঘরে মেয়েকে নিয়ে বসে যেতেন, কখনও ছড়া শেখাতে কখনও ম্যাপ দেখে দেশ চেনাতে। তুমি বড় হয়ে কী হতে চাও? উত্তর দিতে বেশি সময় নিল না সে, ‘‘ডাক্তার।’’ তুমি যে এত ভাল অভিনয়করো, বড় হয়ে অভিনেত্রী হতে চাও না? প্রশ্ন শুনে আর্শিয়ার পরিষ্কার উত্তর, ‘‘না, অভিনেত্রী নয় ডাক্তারই হব।’’ শ্যুটিং না স্কুল, কোনটা বেশি মজার? এই প্রশ্নের উত্তর সে দিল একেবার পাকা অভিনেত্রীর মতো, ‘‘দুটোই।’’ এই ‘দুটো’ থেকে তাকে কিছুতেই সরানো গেলনা। সমবয়সি অন্যান্য বাচ্চাদের চেয়ে সে যেন একটু বেশিই পরিণত! এটাকি তার জীবনে নতুন সংযোজন নাকি বরাবরই সে এমন? ‘‘ও বরাবর ম্যাচিওর্ড। কোনও বিজ্ঞাপন বা সিনেমা দেখে তা নকল করার অভ্যেস ওর ছোট থেকেই। ওর বাবার (দীপঙ্কর মুখোপাধ্যায়) চাকরিসূত্রে আমরা যখনরাজস্থানে থাকতাম, তখন ওর তিন বছর বয়স। একদিন হঠাৎ দেখি ও কাঁদছে।আমি শশব্যস্ত হয়ে বললাম, ‘কী হয়েছে?’ বলল, ‘কিছু না অভিনয় করছি।’ টিভিতে দেখেছে নায়িকা কাঁদছে, ও সেটাকে নকল করছিল। একদিন অটো স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি, হঠাৎ বলছে, ‘ছোড় দো..ছোড় দো…’’ আমি ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী হল?’ হেসে বলল, ‘অ্যাকটিং করছি মা।’ বুঝুন!’’ হেসে বললেন ভাস্বতী। যে বিল্ডিংয়ে আর্শিয়া থাকে, সেখানে তাঁর বয়সি ছেলেমেয়ে কম, কাছাকাছি খেলার মাঠও নেই। তাই স্কুল থেকে ফিরে আর্শিয়া কখনও মায়ের তৈরি তার প্রিয় পুডিংয়ের বাটি নিয়ে কখনও আবার তার মনের মতো চিকেন খেতে-খেতে মজে যায় টিভিতে প্রিয় কার্টুন ডোরেমনে। ভাল লাগার জিনিসের মধ্যে আর্শিয়ার সবচেয়ে প্রিয় বার্বি ডলকে। ‘‘জানো, আমার বার্বির দুটো স্যুটকেস আছে, মাফলার আছে, বাড়ি আছে, অনেকগুলো জামা-জুতো আছে! আমি ওকে রোজ সাজাই। দিদির সঙ্গে বার্বি নিয়ে খেলি,’’ আহ্লাদ ঝরে পড়ল আর্শিয়ার গলায়। সেলেব্রিটি মুকুটটা খুলে রেখে আর পাঁচটা সাধারণ বাচ্চার মতো, বাবা-মা, দিদির সঙ্গে জীবন কাটছে তার। কিন্তু মুকুট না থাকলেও সে এখনও অনেকের নয়নের মণি। মা, ভাস্বতী তাই যেন একটু দুঃখ করেই বললেন, ‘‘আগের মতোওকে সর্বত্র নিয়ে যাওয়া মুশকিল। এই তো দেখুন না, সেদিন একটা বিয়ে বাড়ি গিয়েছি, নিমন্ত্রিতরা বউকে আগে না দেখে সকলের একটাই আবদার, ‘ভুতু আমার সঙ্গে একটা ছবি তোলো।’ খুব অস্বস্তি লাগছিল। সমবয়সিদেরসঙ্গে খেলতে পারছিল না বলে বেচারা প্রায় কেঁদেই ফেলে। তাই এখন খুবপরিচিত জায়গা না হলে ওকে নিয়ে যাই না।’’ মাত্র এক মাস হয়েছে সিরিয়াল থেকে ছুটি পেয়েছে আর্শিয়া কিন্তু এর মধ্যেই অন্য সিরিয়ালের অফার এসেছে ভাস্বতী ও দীপঙ্করবাবুর কাছে। কিন্তু তাঁরা চাইছেন আরও বেশ কিছুদিন তাঁর মেয়ে এই স্বাভাবিক জীবনে থাকুক। তারপর তাঁরা ভেবে দেখবেন মেয়ে অভিনয় করবে কি না। আর্শিয়া অবশ্য নিজে এখন স্কুল নিয়েই মেতে আছে। শুধু একটা জিনিসই সে খুব মিস করে।সেটা পটেটো চিপস। সিরিয়ালের শ্যুটিংয়ের সময় নবীনা সিনেমা হলের মালিক তাকে রোজ এক প্যাকেট করে চিপস উপহার দিত। সেটা আর পাওয়া হচ্ছে না। এইটুকুই যা দুঃখ!

ভয়ংকর ভুতুড়ে প্রেমের গল্প

ভূতের প্রেম
পরিক্ষা শেষ,,অনেকদিন ধরে ফেসবুক চালাই না|| তাই আজ বিকেলে একটু ফেসবুকে ঢুকলাম ফ্রেন্ডদের সাথে একটু চ্যাট করলাম| তারপর একটা গ্রুপের গল্প পড়তে লাগলাম..গল্পটা পড়তে পড়তে ৬-৭মিনিটের মতো লেগেগেলো|| পড়ার পর আরেকটু চ্যাট করলাম..একটু ক্লান্ত ছিলাম তাই চোখ লেগে গেলো|| ঘুম ভাঙলো সন্ধায়.. _ এইরে ডাটা টা অন করেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম..ডাটা অফ করতে যাবো তখনই দেখলাম কিছু নতুন ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট আসছে তার মধ্যে একটা আইডি "মায়াবি কাজল" আইডিরনামটা ভালো লাগলো তাই এসেপ্ট করলাম|| . (পরেরদিন) . কলেজে বসে বাদাম খাচ্ছি আর এটা গল্প লেখার চেষ্টা করছি..(কথার মাঝেই পরিচয়টাসেরে ফেলি,,আমি সুমিত,এইবারই কলেজে পা দিয়েছি ফার্স্ট ইয়ারে..বাকিকথা পড়ে হবে) . যাক গল্প লেখা শেষ..ফেসবুকের একটা গ্রুপে পোষ্ট করলাম|| এরই মাঝে ঐ মেয়েটার মেসেজ এসেছে..মেসেজটা কাল রাতেই দিয়েছিলো কিন্তু খেয়াল করিনি|| যাই হোক মেসেজে "Hi" লিখেছে তাইআমিও "Hlw" দিলাম..কিন্তু এখন ও অনলাইনে নেই|| . (রাতে) . ডিনার করে ফেসবুকে ঢুকলাম..আমরা আসলে একটু দেরিতে ডিনার করি..তখন 12.6 বাজে ফেসবুকে ঢকতেই দেখি মেয়েটার মেসেজ.. মেয়ে:কেমন আছেন? আমি:ভালো আপনি? মেয়ে:ভালো..আপনার গল্পগুলো পরলাম..ভালোই তো লেখেন আমি:ধন্যবাদ মেয়ে:আপনার নাম টা জানতে পারি?? আমি:সুমিত..আপনার?? মেয়ে:কাজল আমি:বাহ ভালো তো নাম টা.. মেয়ে:ধন্যবাদ আমি:আচ্ছা গুড নাইট.. মেয়ে:গুড নাইট সেদিন আর কথা হয়নি ওর সাথে.. . (পরেরদিন) . ঠিক একই সময়ে ফেসবুকে ঢুকলাম..মানে12 টার পরে|| ঢুকে দেখলাম চ্যাটে অনেকেই আছে কিন্তু কাওকেই চিনিনা..ভার্চুয়াল ফ্রেন্ড তো তাই হয়তো.. কিন্তু সবার মাঝথেকে একজনের সাথে কথা বলার ইচ্ছে করতাছে,ঐ মেয়েটির সাথে.. তাই নিজের ইচ্ছেকে বাধা না দিয়ে ওকে একটা মেসেজ দিলাম.. ওইদিন ওর সাথে অনেক কথা বলেছি,একদিনেই ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম..সত্তি মেয়েটা অনেক মিশুক,,গুছিয়ে কথা বলতে পারে ভালো.. . . (পরের দিন) . . আজ ওকে আরচ্যাট এ পেলামনা..ফেসবুক চালানোটা একধরনের নেশা|| কখন যে সময় চলে যায় বোঝাই যায় না.. আজ খুব ক্লান্ত লাগছে তাই আর বেশিক্ষন ফেসবুকেথাকতে ইচ্ছা করছে না|| . ১১.৫৬ বাজে..নোটিফিগেশন গুলো চেক করলাম এবং নিউজফিড ঘুরতে লাগলাম.. হঠাৎ একটু অবাক হলাম ঠিক ১২.১ এ একটা মেসেজ|| বাহহ..গুড টাইমিং আমার আবার অসাধারন জিনিস সংগ্রহ করার শখআছে..তাই একটা স্কিনসট তুলে রাখলাম.. . মেসেজটা ছিলো কাজলের.. কাজল:কি করেন?? আমি:কিছু না..আচ্ছা আপনাকে তো সারাদিন fb তে পাই না,কিন্তু এতো রাতে কি করেন?? কাজলno reply) . .আমারও ভালো লাগছিলোনা তাই ঘুমিয়ে পরলাম.. . পরদিন কেন জানি কাজলেরকথা ভাবতে লাগলাম..কৌতুহল হলো একটু ও এতো রাতে কি করে ফেসবুকে??. . (পরদিন সকারবেলা) উফফ বেশি ভাবতে ভালো লাগেনা.. ভাবলে যদি আবার ঐ প্রেম নামক গর্তে পরে যাই.. একবার পরছিলাম,কিন্তু সে তো___ . হায় হায় আমি আবার বক বক শুরু করলাম..তো আমি কাজলের কথাভাবছিলাম তাই না?? নাহ ভেবে কি হবে?? রাত ১২টার সময় তো অনেকেইথাকে ফেসবুকে.. মনে হয় বেশি ফেসবুক চালাতে চালাতে আমার মাথাটা পুরাই গেছে.. . এইরে ১০টা বেজে গেছে কলেজে যেতে হবে..আজকে আবার লেট হবে শিউর|| বিছানা থেকে নামতেই অভির ফোন.. . অভি:শালা কই তুই?? কলেজে যাবিনা?? আমি:হুওমম..(পাউরুটি খেতে খেতে) অভি:তারাতারি আয়.. আমি:ওকে.. . কলেজে গিয়ে স্যারের ঝারি শুনতে হলোঅনেক লেট করে ফেলছি.. . ক্লাস শেস করে আমার অদ্ভুত কালেক্সন গুলো দেখতে লাগলাম.. কিন্তু কারকের ওই স্কিনসট টা দেখে একটু অবাক হলাম.."মায়াবি কাজল" লেখাটা কেমন জানি লাল হয়ে আছে|| হুরর আবার উলটা পালটা ভাবতে লাগলাম..ফেসবুকের নতুন আপডেট মনে হয়?? ভার্চুয়াল তো হতেই পারে.!! . এখন ওর সাথে রোজ কথা হয়..কিন্তু ঐ রাত ১২টার পরেই ওকে যদি বলি সারাদিন কোথায় থাকে?? এতো রাতে ফেসবুকে কি করে কিছু বলেনা..পার্সোনাল প্রবলেম হয়তো.. প্রতিদিন ওরসাথে করা হতো ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম.. কেটে গেলো ২মাস . . একদিন ও আমাকে হঠাৎ দেখা করতে বলে.. একটু অবাক ই হলাম কারন ওর ফোন নাম্বারচাইলে না করতো আর আজ দেখা করতে বলছে.. আমার তো খুশিতে নাচতে ইচ্ছাকরছে.. . . পরেরদিন ফেসবুকেই ছিলাম একটু বোরিং লাগছিলো তাই কাজলেরআইডিতে একটু গেলাম.. প্রোফাল পিক চেন্জ করেনা অনেকদিন ধরে..দুই বছর আগে একবার চেন্জ করেছিলো.. ওর সাথে আমার এক মিউচুয়ার ফ্রেন্ড আছে.. আইডির নাম হলো রন্জন বনিক|| সময় কটাছিলোনা তাই একটা মেসেজ দিতে গেলাম|| গিয়ে দেখলাম ছেলেটা আমাকে অনেক আগেই মেসে দিয়েছে কিন্তু আমি দেখিইনি.. মেসেজে লিখেছে "ভাই ঐ মেয়েটার থেকে দুরে থাকতে.." অনলাইনে আছে তাই বল্লাম কোন মেয়ে?? . রন্জন:ঐ যে মায়াবি কাজল(একটু দেরি হলো মেসেজটা দিতে) আমি:কেন?? আপনার বোন-টোন হয় নাকি?? রন্জন:না ভাই..ও মানুষ না|| আমি:হাহাহা..ভাই মজা কইরেন না.|| রন্জন:আরে ভাই আমি মজা করছি না|| শুনুন তাহলে ওর নাম কাজল সেটা তো জানেনই কিন্তু ওর ব্যাপারে আসল সত্য জানেন না|| ওর একটা বয়ফ্রেন্ড ছিলো ৩ বছরের রিলেশন ছিলো.. কিন্তু তাদের ভালোবাসার সম্পর্কটি বাসা থেকে মেনে নেয়নি||তাই তারা সিদ্ধান্ত নিলো যে তারা পালিয়ে বিয়ে করবে,,তাই ছেলেটি কথা মতো সে তার বাড়ি থেকে অনেক টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়|| কিন্তু ছেলেটি এতগুলো টাকার লোভসামলাতে পারলোনা তাই মেয়েটিকে মেরে কদমতলিতে ফেলে রেখেছিলো|| আপনাকে নিশ্চই কদমতলিতে দেখা করতে বলেছে তাইনা?? আমি:হ্যা(একটু অবাক হয়ে) রন্জন:এর আগে তিনজনকে যেতে বলেছিলো তাদের সবার মৃত দেহ পাওয়া গেছে|| . . এগুলো জানার পর কাজলকে সাথে সাথে ব্লক করে দিছি.. কারন আমার জিবনেরও একটা মায়া আছে এই বয়সে মরার শখ নাই!! .. . """""সমাপ্ত""""" ^_^

গল্প টি লিখেছেন মোঃজাহিদুল ইসলাম
অাপনার সাথে ঘটে যাওয়া যেকোনো গল্প অামাদের মাধ্যমে শেয়ার করতে অামাদের ফেসবুক এ মেসেজ দিন ধন্যবাদ

বাংলা ভুতের গল্প (মামার জীবনে ভুত)

ভুতের গল্প
গল্পঘটনাটি আমার এক মামার কাছ থেকে শোনা এবং রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে মামাসহ আরো একজনের সাথে । তো মামা এবং মামার বন্ধু নওগা হয়ে আসছিল গাড়ি চালিয়ে । গাড়ি চালাচ্ছিল মামার বন্ধু ।তারা যখন নওগা নহাটাতে পৌছল তখন ঘটনাটি ঘটে ।তখন রাত প্রায় তিনটা । তারা মাইক্রোবাসে করে যখন আসছিল সেই মুহূর্তে তারা একটা মেয়েকে দেখতে পায় রাস্তার ধারে দাড়ানো অবস্থায় । মামার বন্ধু বলে এত রাতে এখানে একটা মেয়ে,বোধহয় বিপদে পড়েছে,চল মেয়েটিকে সাহায্য করি ।মামা তখন বলে তুই কি ঠিক আছিস,দেখ চারিদিকে বিল,আশেপাশে কোন বাড়িঘর নাই ।তাছাড়া রাত বাজে ৩টা এত রাতে এমন নির্জন জায়গায় একটা মেয়ে!! মামার বন্ধুটি ভূত প্রেত কিছুতেই বিশ্বাস করেনা । তোসে মামাকে বলল তুই না গেলে না যাস আমি যাব ।মামার বন্ধুটি গাড়ি ঘুরিয়ে সেই মেয়েটি যে জায়গায় ছিল সেই জায়গায় যেয়ে দেখে মেয়েটি হাটু গেড়ে বসে আছে । তারা নেমে দেখে সেটি ছিল এক মহিলা ।বয়স আনুমানিক ৪০-৪৫। তারা মহিলাকে বলে এত রাতে আপনি এখানে কোন বিপদ হয়েছে নাকি ।মহিলাটি কোন কথা না বলে ফুপিয়ে কাদতে থাকে । মহিলার কান্নার কারন জানতে চাইলেও মহিলাটি কিছুই বলেনা ।হঠাত্ মহিলাটি বিলের মধ্য দিয়ে হেটে যেতে থাকে । মামা বন্ধুকে বলে মহিলার সাথে যাবার দরকার নাই,বিপদ হতে পারে ।কিন্তু বন্ধুটি মামারকথা না শুনে মহিলার পেছন পেছন যেতে থাকে । নিরুপায় হয়ে মামাও যায় তার সাথে ।কিছুদূর যাবার পর মহিলাটি পোটলার মত কিছু একটা দেখিয়ে হু হু করে কেদে উঠল । মামা এবং বন্ধু যেয়ে দেখে পোটলার ভেতর একটা কাপড়ে ঢাকা ছোট বাচ্চার লাশ । মামা এই লাশ সম্পর্কে জানতে চাইলে মহিলাটি চুপ করে কাদতে থাকে । মামারা ভাবে মহিলাটি হয়তো বোবা ।হুট করে মামার বন্ধুটি বলে উঠে যে চল মহিলাটি আমরা সাথে করে নিয়ে যাই,এই নির্জন এলাকায় এত রাতে ফেলে রেখে যাওয়া উচিত হবে না । মামা অনিচ্ছা সত্বেও রাজি হলো । মহিলাটিকে গাড়ির পেছন সিটে বসিয়ে গাডি চলতে থাকল ।সময় তখন রাত ৩.৫০কিছুদূর যাবারপর গাড়ির ইন্জিন হঠাত্ বন্ধ হয়ে গেল । গাড়ি সারতে সারতে প্রায়৪.১৫বেজে গেল ।গাড়ি আবার চলছে এমন সময় মামা লুকিং গ্লাসেরদিকে তাকিয়ে দেখে মহিলাটার মাথাহীন দেহ ।সাথে সাথে পেছন ফিরে দেখে মহিলাটি ঠিকই আছে । কিন্তু আবার যখন লুকিং গ্লাসের দিকে তাকাল তখন একই দূশ্য দেখল ।মামা তখন তার বন্ধুকে দেখতে বলল ।বন্ধুটিও একই দূশ্য দেখে ভয়ে কাপতে লাগল এবং তারা দুজনই প্রচন্ডঘামতে শুরু করল ।মামা ভয়ে কাপড় দিয়ে লুকিং গ্লাস ঢেকে দিল এবং মহিলার দিকে তাকিয়ে বলল আপনি কি কিছু খাবেন ।সাথে সাথে খেয়াল করে মহিলাটির চোখ অনেকখানি লাল এবং মৃত শিশুটি তার কোলেই রয়েছে ।মামারা আল্লাহ আল্লাহ করতে থাকল । কিছুদূর যেতে না যেতে তারা সেই মহিলাটিকে রাস্তার পাশে দাড়ানো অবস্থায় দেখে কিন্তু মহিলাটি তো তাদের গাড়িতে বসা ছিল । তারা গাড়িটা থামিয়ে দিল এবং একসাথে দেখল যে পেছনে মহিলাটি নাই এবং সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপারটা হচ্ছে মৃত বাচ্চাটি সিটের উপর দাড়িয়ে তাদের দিকে মুচকি হাসছে এবং বাচ্চাটির চোখের মনি নেই ।এই দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে বন্ধুটি সেন্সলেস হয়ে যায় ।মামা মনে সাহস আনার চেষ্টা করল এই ভেবে যদি আমার কিছু হয় তাহলে আমাদের আজ রাতে এখানে পড়ে থাকতে হবে,কিছুতেইগ্যান হারানো যাবে না ।মামা এবার নিজে ড্রাইভ করতে লাগল এবং ভয়ে পেছনে তাকাচ্ছে না । মামা যত সূরা জানে সবগুলো পড়তে লাগল ।হঠাত্ মামা পেছন থেকে খঠমট আওয়াজ শুনতে পেল । মামা ভয়ে ভয়ে লুকিং গ্লাসের কাপড় সরিয়ে দিয়ে দেখে বাচ্চাটি একটা রক্তাক্ত পা চিবাইচিবাই খাচ্ছে । এইটা দেখে মামা গাড়ির গতি আরো বাড়িয়ে দিল এবং মামা নাকি আরো ২বার মহিলাটি দাড়ানো অবস্থায় দেখেছে । ইতিমধ্যে সকাল হয়ছে তো মামা দেখে রাস্তাঘাটে মানুষ এবং যানবাহন চলছে ।ঘড়িতে তখন সকাল ৭.২৫ । মামা গাড়ি থামিয়ে পেছনে দেখে কেউ নাই শুধুমাত্র সেই কাপড়টা ছাড়া যে কাপড়ে বাচ্চাটি ঢাকা ছিল ।মামা যেয়ে দেখে কাপড়ের মধ্যে কয়েকটা রক্তাক্ত হাড় পড়ে আছে ।মামা রাস্তার কয়েকজন লোককে ডেকে আনল ব্যাপারটা দেখানোর জন্য ।কিন্তু এসে দেখে গাড়ির পেছনের সিটে কাপড়সহ রক্তাক্ত হাড়গুলো নেই!!

অাপনাদের সাথে ঘটে যাওয়া যেকোনো ভুতের গল্প অামাদের মাধ্যমে শেয়াী করতে অামাদের ফেসবুক পেজ এ মেসেজ করুন।




ভয়ংকর সব ভুতপর গল্প পড়তে Banglagolpo.blogspot.com  সাথেই থাকুন

বাংলা রোমান্টিক গল্প (আগের মতোই ভালোবাসবো)

bangla romantic golpo

মেয়েটা আট সদস্য বিশিষ্ট কিডন্যাপার গ্রুপের হাতে ধর্ষিত হয়েছিল। ধর্ষণ করিয়েছে তার আপন ফুপু। বাবা মায়ের মৃত্যুর পর মেয়েটি তার প্রেমিককে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিশাল সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে যাবে এই ভেবে ফুপা প্ল্যান করে তার আদরের ভাইপোর সাথে মেয়েটিকে বিয়ে দেবে। মেয়ে রাজি হয়নি। শুরু হয় নির্যাতন।নিজেরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর সেদিন বিয়ে করার উদ্দেশ্যেই মেয়েটি ঘর থেকে বের হয়েছিল। . কিন্তু পৌঁছাতে পারে নি।আটজন ছেলে তাকে রাস্তা থেকে চোখের পলকে চলন্ত মাইক্রোবাসে টেনে তুলে নিয়ে চলে যায়। আর কোন খোজ পাওয়া যায় নি। মেয়েটির জন্য অপেক্ষারত ছেলেটি তার ফোন বন্ধ পেয়ে বুঝতে পারে কিছু একটা হয়েছে। ফোন করে মেয়ের খালাকে। ওদের সমস্ত ঝামেলা জানতো আরেকটি মেয়ে। . যেওদের দুজনের ভালো বান্ধবী ছিল। কোনরূপ ঝুট ঝামেলা জানাজানি করা যাবেনা মেয়েটির নিখোঁজ হবার ব্যপারে। কারণ মিডিয়ার মুখে মিডিয়া কর্মী পড়লে সেখানে কতটা বাজে পরিস্থিতি হয় তা বলে বুঝানোর কিছু নেই। তাছাড়া, ছেলের পরিবার যদি জানে মেয়ে উধাও তাকে ফিরে পেলেও ছেলের পরিবার গ্রহণ করবে না। . সমাজতো নারীকেই দোষ দেয়। সকল দিক চিন্তা করে খালা,বান্ধবী আর ছেলেটি মিলে খুব সতর্কতার সাথে খোজ নেয়ার কাজ শুরু করলো। অনেক লুকোছাপা, মিথ্যা বাহানা, গোয়েন্দাগিরিশেষে দশ দিনের মাথায় মেয়েটির খোজ মিলল। তাকে ঢাকায় এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। পনের দিন আইসিইউ বাস সহ প্রায় দুই মাস হাসপাতালে ভর্তি ছিল। . আটজন পুরুষ মিলে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে ওর উপর। কথা ছিল ওকে মেরে ফেলার। কিন্তু সৌন্দর্য্যের জন্য ধর্ষণ থেকে বিরত থাকতে পারেনি দুষ্কৃতি কারীরা। মেয়েটি সুস্থ হবার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করে। কারো সামনে দাঁড়াতে ভয় পেত। সারাক্ষণ নিজেকে এক কোনে গুটিয়ে রাখতো। ওকে যেই ছেলেটি ভালোবাসতো সেই ছেলেরসামনে কোন ভাবেই ওকে আনা যেত না। . ছেলেটি কিন্তু মেয়েটিকে ছেড়ে যায় নি। বরং সাইকিয়াট্রিস্ট এর কথা মত সে ওর স্বাভাবিক মানসিকতার অপেক্ষায় ছিল। এভাবে কেটে যায় আরো দুই মাস। ছেলেটি এই কষ্ট আর মেনে নিতে পারে নি। কারণ সে খুব ভালো করেই জানতো আজকের এই মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় কতটা চঞ্চল আর ওকে ভালোবাসতে ব্যস্ত ছিল। . তাই এবার সে ডাক্তারের কথা না মেনে বান্ধবী আর খালাকে জানায় ওর সাথে কথা না বলে ওকে না দেখে থাকা আর সম্ভব নয়। যেহেতু মেয়েটি খালা বান্ধবীর সাথে কথা বলতে পারে সেহেতু ওর সাথেও পারবে। . মেয়েটি সেদিন বলে দেয় “এই রিলেশন আর সম্ভব নয়। সমাজ ওকে মানবে না, শ্বশুড়বাড়ি ওকে মানবে না, এমনকি ও নিজে তার প্রেমিকের সাথে ফ্রি হতে পারবেনা”। ছেলেটি এইসব কথা শুনে প্রকাশ্যে মেয়েটিকে চড় মেরেছিল। বলেছিল, ” আমাকে আর তোর কেন লাগবে? তুইতো **** পেয়েই গেছিস, তোর তো আর কিছুর দরকার নাই। . ভালোবাসার মর্ম তুই কি বুঝবি? আমি যে গত কয়েকটা মাস তোর আশায় ছিলাম সেটার কি হবে? আমি কার জন্য দৌড়াইছি? তুই ধর্ষিতা এইটা তুই বলতে হবে? আমি কিছু জানিনা? আরোঅনেক কথা। শেষ কথা ছিল “তুই ধর্ষিতা হ..পাগল হ..যা খুশি হ..তুই শুধু আমার। . তুই যদি আমাকে ছেড়ে যেতে চাস খুন করে ফেলবো তোকে। আত্মহত্যা করতে চাস? তোর কবরে আগুন ধরিয়ে দেব আমি। তুই আমার সাথেথাকবি, আমার বউ হয়ে থাকবি। তুই শুধু আমার হয়ে থাকবি”। . খালামণির সাথে পরামর্শ করে, ছেলের পরিবারের কাছে ধর্ষণের ব্যাপারটা গোপন রেখে বিয়ে হয় ওদের। ছেলেটি খুব কৌশলে তার পরিবারকে মানিয়ে নেয়। বিয়ের পর মেয়ের ফুপু ধর্ষণের কথা ছেলের পরিবারকে জানালে উলটো তিনিনিজেই অপমানিত হন। কারণ উনারা জানতেন এই ফুপুই মেয়েটির জীবনের একমাত্র অশান্তি। . প্রমাণ জাহির করলেও যারা মেয়েটির ধর্ষণের কথা জানতো তারা সবাই বলেছিল “ও আবার কবে ধর্ষিত হলো?” সবশেষে সেই ফুপুকে আইনের আওতায় আনা হয়। মেয়েটির মনে ভয় ছিল যদি ছেলেটি কোনদিনকোন কারণে ওকে ধর্ষণের কথা বলে আঘাত করে। কিন্তু সেই ভুল ওর ভেঙ্গে গেছে বিয়ের পর। . আজ ওদের বিয়ের তিন বছর পুর্ণ হলো। মেয়েটিআজো হাসিমুখে বললো, ধর্ষিতা হিসেবে আমি বিব্রতবোধ করলেও ও আমাকে কাছে টানতে এতটুকু বিব্রত নয়। . যেখানে আমার বলার কথা “তুমি আমাকে আগের মতো ভালোবাসোনা, সেখানে ও বলে তুই আমাকে কম ভালোবাসোস কেন? আমি তোর জামাই না? ভালোবাসতে কিপটামি করবি না বউ” {♪-----(সমাপ্ত)-----♪}

গল্পটি লিখেছেন মোঃ সজিব।

একটি নুপুর ও ভালোবাসার গল্প

bangla romantic golpo
জেসমিনের সাথে আমার প্রথম দেখা হয় ওদের বাড়িতে,তখন আমার বয়স ছিলো আট বছর আর ওর ছয়। ওরা আমাদের পাশের ফ্লাটেই ছিলো।আমার মা আর ওর মায়ের ভীষন মিল ছিলো।আমি বড়া বড়ই ভীষন লাজুক প্রকৃতির ছিলাম,জেসমিনকে আগে কোনদিন দেখিনী,একদিন আমার মা ওদের বাসায় আমাকেনিয়ে গিয়ে গল্প জুরে দেয়,একসময় বলে, ---তাহলে ওই কথাই রইলো ভাবি,আজ থেকে আমরা দুজন বিয়ান,আমার ছেলের সাথে আপনার জেসমিনের বিয়ে দিবো। জেসমিনের মা ও বলেছিলো- "হ্যা ভাবি। সে সময় ওর মায়ের পিছন থেকে জেসমিন আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো,আমি ওর দিকে লাজুক চোখো তাকিয়ে ছিলাম। . সেদিন জেসমিন আমাকে বলেছিলো, "তুমি আমার বর হবে?" আমি বলেছিলাম, "হ্যাঁ" এরপর আমার মায়ের দেয়া গলার চেইনটা লকেট সহ ওকে খুলে দেই। [এরকিছুদিন পর জেসমিনের বাবার ট্রান্সফার হওয়ায় ওরা সেখান থেকে চলে যায়। এরপর কেটে যায় বারো বছর] . . .বারোবছর পর . . প্রথম প্রথম জেসমিনের কথা অনেক মনে পড়েছিলো,তারপর এই ব্যাস্ত পৃথিবীতে জেসমিন কে ভুলেই গিয়েছিলাম। একদিন ভার্সিটির সামনে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম,এমন সময় সামনে চেচামেচির আওয়াজ শুনে বন্ধুরা মিলে এগিয়ে গেলাম।গিয়ে দেখলাম, একটি মেয়ে একটিছেলেকে থাপ্পর মারছে। ঘটনাটা হলো এই যে, "একটি ছোট ছেলে ফুল বিক্রি করার জন্য একটি ছেলের পান্জাবি ধরে টান দিয়ে বলেছে, স্যার ফুল নিবেন?? তাই ছেলেটি ফুল বিক্রেতা ছেলেটিকে থাপ্পর দেয়। সেই কারনে মেয়েটিও ঐ ছেলেটিকে থাপ্পর দেয়" এসময় অনেক লোক ই ভির করে। আমি মেয়েটির চোখের দিকে তাকালাম,দেখলাম দূর্গা দেবীর মতো অগ্নিশর্মা তার চোখ।আমি এগিয়ে গিয়ে বলতে ধরলাম, আসলে......... মেয়েটি রাগী চোখে আমার দিকে তাকালো আর চেচিয়ে বললো, আসলে কি হ্যাঁ,আপনাকেও দিবো নাকী? , আমি অনেকটা ভিত হয়ে বললাম, "না মানে,আসলে ঠিকই করেছেন,আরো কয়েকটা মারুন" বলে সেখান থেকে বন্ধুদেরসাথে অনেকটা দৌরে চলে আসলাম। কিছুদুর এসে পিছনে তাকিয়ে দেখি,মেয়েটি মুচকি হাসছে। সেদিন মেয়েটিকে দেখার পর,রাতে অনেকবার তাকে নিয়ে ভেবেছিলাম।চোখে ভেসে আসছিলো তার সেই চাহনী। . কয়েকদিন পর . বন্ধুর সাথে একটা মার্কেটে গিয়েছি,গিফ্ট কেনার জন্য,গিফ্ট দেখতে দেখতে পাশে তাকাতেই দেখতে পেলাম সেদিনের সেই মেয়েটি।আমি অনেকটা খুশি হলাম,লাজুক স্বভাবের জন্য তাকে কিছু বলতেও পারলাম না।একসময় তাকে হায় বলতে যাবো,এমন সময় ওর একটা বান্ধবী এসে ওকে নিয়ে যায়। এরপর ওকে ফলো করতে থাকি।ফলো করতে করতে ওর বাসার সামনে যাই। . এরপর থেকে প্রাই ওকে ফলো করতাম,কলেজ,কফিশ প,লাইব্রেরী সে যখনী আমার দিকে তাকাতো,আমি অন্যদিকে তাকাতাম,কিংবা বই দিয়ে মুখ ঢাকতাম।ধিরে ধিরে জানতে পারলাম ওর নাম জেসমিন। . সেদিন নিউমার্কেটথেকে জেসমিনকে ফলো করে যাওয়ার সময়,ও পিছনে তাকাতেই আমি থেমে যাই,তারপর আবার চলতে শুরু করি।একসময় জেসমিন আমার কাছে আসে,এবং বলে, --ব্যাপার কি হ্যাঁ?অনেকদিন থেকেই দেখছি আমার পিছনে ঘুরঘুর করছো।কাহিনী,কি?"(জেসমিন) --কই না তো(আমি) --একটা থাপ্পর মারবো,কি চাই? --না মানে,বন্ধুত্ব --সত্যি তো,সুধু বন্ধুত্ব? --হুম --ওকে,বন্ধুত্ব ছাড়া যদি অন্য কিছু হয়েছে তো খবর খারাপ আছে। ০১৭৬******* এটা আমার নম্বর রাতে ফোন দিও। . এরপর থেকে জেসমিনের সাথে সবসময় ঘুরতাম।জেসমিন কে দুর থেকে যতোটা রাগী মনে হয়,কাছ থেকে তেমন নয়,অনেক ভালো একটা মেয়ে,সবসময় সবাইকে দান খয়রাত করে,অসহায় পথশিশু দের আদর করে আইসক্রিম কিনে দেয়।মুলত জেসমিনের এইকাজ গুলোর প্রতি আমি আরো মুগ্ধ হয়। . একদিন পার্কে ও আর আমি বসে আছি,আমি ওকে বললাম, --একটা কথা বলবো?(আমি) --বলো(জেসমিন) --রাগকরবে না তো? --রাগ করার মতো কথা হলে তো রাগ করবোই --তাহলে বলবোনা --আচ্ছা বাবা ঠিক আছে বলো --না মানে,আমি তোমাকে ভালোবাসি [জেসমিন কিছু বললো না,ফান ভেবে হাসতে শুরু করলো] --আমি সত্যি বলছিজেসমিন(আমি) [এবার সে হাসি থামালো,তার চেহারার কিছু পরিবর্তন ঘটলো] সে বললো, --একটা থাপ্পর লাগাবো,বলেছিলাম না,যাষ্ট বন্ধুত্ব? আমি একজনকে অনেক ভালোবাসি জিসান,আর কখনো আমার সাথে যোগাযোগ করবেনা।আমার মাথা ব্যাথা করছে,আমি গেলাম। [বলে সে উঠে চলেযেতে লাগলো।আমি তাকে আটকানোর জন্য ওর হাত টেনে ধরলাম,ও রেগে আমাকেএকটি থাপ্পর দিয়ে চলে গেলো। বাসায় গিয়ে,অনেক মন খারাপ হয়েছিলো।নিজের ভাগ্যের প্রতি অনেক দোষ দিতে লাগলাম।আর বার বার মনেহতে লাগলো,জেসমিনের সেই কথা, "আমি একজন কে অনেক ভালোবাসি"] . . কয়েকদিন পর . . জেসমিন আমাকে পার্কে ডেকে পাঠায়।আমি সেখানে যাই। অতঃপর জেসমিন বলতে শুরু করে, ---"সেদিনের জন্য আমাকে ক্ষমা করো জিসান। ছোটবেলায় আমাদের পাশের ফ্লাটের এক আন্টির ছেলের সাথে আম্মুআমার বিয়ে ঠিক করে রেখেছিল। এরপর আমরা ওখান থেক চলে আসি। চার বছর আগে আমার আম্মু মারা যায়।ছোটবেলা থেকেই ঐ ছেলেটিকে আমি মনে রেখেছি,ও আমাকে একটা,চেইন সহ লকেট দিয়েছিলো,এই দেখো [গলা থেকে বেরকরে] আমি আজো বিশ্বাস করি তাকে খুজে পাব"(জেসমিন) , এরপর আমি ওকেকিছু না বলে বাসায় চলে যাই, বাসায় গিয়ে পাগলের মতো আমার আলমারি হাতাতে থাকি। একসময়,জেসমিনের নুপুরটা খুজে পাই।এরপর আমার মনে পড়ে,"জেসমিন ছোটবেলায় ওখান থেকে চলে আসার সময় আমাকে ওর একটা নুপুর দিয়েছিলো,তখন কিছু বুজিনী ভেবেছিলাম নুপুর টাতো ওর পায়ে বড় হয় তাইহয়ত আমাকে দিয়েছে,এরপর আমার আলমারিতে ফেলে রেখে ছিলাম" . সেদিন রাতে জেসমিনকে,ফোন দিয়ে পরেরদিন আসতে বলি।সারারাত অনেক অস্থিরতায় কাটাই প্রহর গুনতে থাকি কখন সকাল হবে। পরেরদিন ছিলো"ভ্যালেন্টাইন্স ডে" জেসমিন একটি লাল শাড়ি পরে এসেছে। সে বললো,"বলো কেন ডেকেছো?" , আমি বললাম, "হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে জেসমিন" বলে ওর নুপুরটা ওর দিকে বাড়িয়ে দিলাম। , ও অবাক হয়ে গেল,বলতে লাগলো, জিসান তু.... , হ্যা জেসমিন আমি ই সেই জিসান(আমি), জেসমিন বললো, "এতো কাছে থেকেও আমি তোমাকে চিনতে পারিনী,আমি জানতাম তোমাকে খুজে পাবো" বলে আমাকে জরিয়ে ধরলো,আমিও ওকে জরিয়ে ধরলাম। . . পাঠক নিশ্চই ভাবছে গল্পের শেষ এখানেই তাইনা? আমিও অনেক হ্যাপি হতাম যদি আমার গল্পটা এখানেই শেষ হতো,কিন্তু হয়নী,ভাগ্য যেন আমাকে নিয়ে খেলতে চেয়েছিলো। . সেদিন জেসমিন আমাকে জরিয়ে ধরার পর,আমিও তাকে জরিয়ে ধরি।এরপর সেই নুপুরটা ওর পায়ে পরিয়ে দিতে যাই ঠিক সেই সময় ও মাটিতে পড়ে যায়।আমি পাগলের মতো ওকে নিয়ে হসপিটালে ছুটতে শুরু করি,হসপিটালে গিয়ে ওকে আই.সি.ইউ তে ভর্তি করানো হয়।আমি ওর ফোন থেকে ওর বাবা কে ফোন করি,ওর বাবা হসপিটালে আসে। অতঃপর ডক্টর কিছু টেষ্ট করার পর রিপোর্ট দেয়। রিপোর্ট টা শুনে আমার মাথায় যেন বাজ ভেঙ্গে পরে,জেসমিনের"ব্রেইন্ড টিউমার" যত তারাতারি সম্ভব অপারেশন করতে হবে। একথা শুনে ভাগ্যের উপর দোষ দিতে লাগলাম। জেসমিনের বাবাও অনেকটা ভেঙ্গে পড়লেন।পড়ে ডক্টর কে অপারেশন করার অনুমতি দিলেন।পরদিন সকাল ১০টায় অপারেশন শুরু হলো। . . তিন মাস পর . . সেদিন অপারেশন করানোর পর,ভাগ্য আমাদের সহায় হয়েছিলো,তাই জেসমিনের অপারেশন সাকসেস্ হয়েছিলো,আজ জেসমিন পুরোপুরি সুস্থ।ওকে আজ বাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে। কেবিনে ও বিছানার উপর বসে আছে।আমি ওর কাছে গেলাম ওর পায়ে নুপুরটা পরিয়ে দিলাম,আর বললাম বালোবাসি ভালোবাসবো সারাজীবন জেসমিন ভালবেসেওর হাতটা আমার হাতের উপর রাখলো। এবার আর কোন কিছুতেই ওকে হারাতে দিবো না।


গল্পটি কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট জানাতে ভুলবেন না।
অারো নতুন নতুন গল্প পেতে Banglagolpo2020.blogspot.com এর সাথেই থাকুন