Showing posts with label বাংলা ইসলামিক গল্প. Show all posts
Showing posts with label বাংলা ইসলামিক গল্প. Show all posts

Sunday, July 8, 2018

ইসলামিক গল্প লোভে পাপ পাপে মৃত্য

একদিন হযরত ঈসা (আঃ) ৩জন লোককে নিয়ে রাস্তাদিয়ে হাটছিলেন। কিছুদূর যাবার পর তারা দেখতে পেল ২টি সোনার ইট রাস্তার পাশে পরে আছে। তখন সেই তিনজন লোক ইট ২টি তুলে নিল। তা দেখে হযরত ঈসা (আঃ) খুব রাগ হয়ে বললেন, "তোমরা খুবই খারাপ কাজ করলে। যে জিনিষ তোমরা নিয়েছ তার মত জঘন্য বস্তু আর ২য় টি নেই। তাই তোমরা লোভ না করে ফেলে দাও। আমার কথা যদি অমান্য কর, তবে এমন হতে পারে যে এই খারাপ বস্তুর লোভে তোমাদের শেষ হয়ে যেতে পারে। তারা ঈসা (আ) এর কথা মানলো না। তাই ঈসা (আ) বিরক্ত হয়ে তাদের ছেরে চলে গেলেন। তখন তারা অন্য পথ ধরল। কিছুক্ষণ পর তাদের ক্ষুদার উদ্রেক হল। ২জন তখন পথের ধারে আরাম করতে বসল আর একজন কিছুনা খাবার কিনতে বাজার গেল। বিশ্রামে থাকা লোক দুটির মধ্য একজন বলল, "আমরা মোট ৩জন আর সোনার ইট আছে ২টি। এটা বণ্টন করতে ২টা ইটি ভাঙতে হবে।" আরেকজন বলল,"হায়! যদি আমরা ২জন ২টা ইট নিতে পাড়তাম!" এই মহুর্তে ইবলিশ এর তাদেরকে লোভের তাড়নায় জ্ঞান শূন্য করে দিল। তারা উভই একমত হল যে লোকটি বাজার গেছে সে ফিরত আসলে তাকে তারা মেরে ফেলবে। অপরদিকে যেইলোকটা বাজার গেয়েছিল, সে চিন্তা করল, "ইস! আমি যদি সবগুলা ইট একাইপেতাম।" তাই সে ভাবল তাদের খাবারে বিষ মিশিয়ে তাদেরকে হত্যা করে সবগুলো সোনার ইট সে একাই নেবে। যেই বুদ্ধি সেই কাজ। সে সেখানে পৌঁছানোর তারা তাকে মেরে ফেলে আর বিষাক্ত খাবার খেয়ে তারাও মারা যায়। আর ইটটা ওখানেই পরে থাকে। হে আল্লাহ! আমাদের লোভ থেকে রক্ষা করুন।।

খলিফা অাবু বকর(রা:) এর গোপন অামল

প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর (রাঃ) ফজরের সালাত আদায় করে মরুভূমির দিকে গমন করতেন এবংসেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে শহরে ফিরে আসতেন। হযরত ওমর (রাঃ) তার প্রত্যেহ এরুপ গমনের দৃশ্য দেখে আশ্চার্যান্বিত হলেন। তাই একদিন ফজরের সালাতের পর আবু বকর (রাঃ) যখন বের হলেন, তখন তিনি গোপনে তাঁকে অনুসরণ করতে লাগলেন। অতঃপর তিনি একটি ঢিলার পিছনেলুকিয়ে থাকলেন ও আবু বকর (রাঃ) কে একটি পুরাতন তাঁবুতেপ্রবেশ করতে দেখলেন। তিনি (আবু বকর রাঃ) সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর বের হয়ে গেলেন। অতঃপর ওমর (রাঃ) ঢিলার আড়াল থেকে বের হয়ে উক্ত তাঁবুতে প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি এক অন্ধ দুর্বল মহিলাকে দেখতে পেলেন, যার কয়েকটি শিশু সন্তান রয়েছে। তিনি মহিলাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নিকট কে আসে? মহিলা বলল, আমি তাকে চিনি না। তিনি একজন মুসলিম। প্রতিদিন সকালে তিনি আমাদের কাছেআসেন। অতঃপর আমাদের গৃহ পরিস্কার করে দেন, আঁটা পিষে দেন এবং গৃহপালিত পশুগুলির দুগ্ধ দোহন করে দেন, অতঃপর তিনি চলে যান। বিস্ময়াভিভুত ওমর (রাঃ) বেরিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ হে আবু বকর! পরবর্তী খলীফাদের উপর তুমি কত কষ্টই না চাপিয়ে দিলে!!! (তারীখু দিমাশক ৩০/৩২২) এ ঘটনাটিতে আবু বকর (রাঃ) এর দুটি দিক বা গুন প্রকাশ পায়। তা হলঃ . ১। রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে জনগনের উপর তার দায়িত্ব পালন, ২। তার ব্যক্তিগত গোপন আমল। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত নিজেদের কিছু গোপন আমল জারি রাখা। ঢাকঢোল পিটিয়ে, মাইকে পোস্টারে নিজের নাম বলিয়ে ইবাদত বা আমল করাতে রিয়ার সম্ভাবনা থাকেযা শিরকের অন্তর্ভূক্ত। রাসূল (সাঃ) বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সত্ আমল সমূহ গোপন করতে পারে, সে যেন তাই করে। (সহীহুল জামে, হাদীস নং ৬০১৮) আমাদের আমল, আমাদের ইবাদতগুলো যেন লোক দেখানো নাহয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। নতুবা শিরকের দোষে দুষ্টো হয়েসব পন্ডশ্রম হবে। আল্লাহ আমাদের সঠিক আমল করার তৌফীক দান করুন।

আল্লাহর জিকির রোগ নিরাময়ের উত্তম ওষুধ

নেদারল্যান্ডের মনোবিজ্ঞানী ভ্যান্ডার হ্য...াভেন পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন ও বারবার ‘আল্লাহ’ শব্দটি উচ্চারণে রোগী ও স্বাভাবিক মানুষের ওপর তার প্রভাব সম্পর্কিত একটি নয়া আবিষ্কারের কথা ঘোষণাকরেছেন। ওলন্দাজ এই অধ্যাপক বহু রোগীর ওপর দীর্ঘ তিন বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েও অনেক গবেষণার পর এই আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করেন।যেসব রোগীর ওপর তিনি সমীক্ষা চালান তাদের মধ্যে অনেক অমুসলিমও ছিলেন, যারা আরবি জানেন না। তাদের পরিষ্কারভাবে ‘আল্লাহ’ শব্দটি উচ্চারণ করার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এই প্রশিক্ষণের ফল ছিল বিস্ময়কর, বিশেষ করে যারা বিষন্নতা ও মানসিক উত্তেজনায় ভুগছিলেনতাদের ক্ষেত্রে। সৌদি আরব থেকে প্রকাশিত দৈনিক আল-ওয়াতান পত্রিকাহ্যাভেনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, আরবি জানা মুসলমানরা যারা নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করেন তারা মানসিক রোগ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। ‘আল্লাহ’ কথাটি কিভাবে মানসিক রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে তার ব্যাখ্যাও তিনি দিয়েছেন। তিনি তার গবেষণা কর্মে উলেখ করেন, ‘আল্লাহ’ শব্দটির প্রথম বর্ণ আলিফ আমাদের শ্বাসযন্ত্র থেকে আসে বিধায় তা শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি আরও বলেন, লাম বর্ণটি উচ্চারণ করতে গেলে জিহ্বা উপরের মাঢ়ী সামান্য স্পর্শ করে একটি ছোট বিরতি সৃষ্টি করে এবং তারপর একই বিরতি দিয়ে এটাকে বারবার উচ্চারণ করতে থাকলে আমাদের শ্বাসযন্ত্রে একটা স্বস্তিবোধ হতে থাকে। শেষ বর্ণে হা-এর উচ্চারণ আমাদের ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের মধ্যে একটা যোগসূত্র সৃষ্টি করে তা আমাদের হৃদযন্ত্রের স্পন্দনকে নিয়ন্ত্রণ করে।

ইসলামিক কিছু প্রশ্ন

কোন কিছুকে বড় করে দেখলেই সেটা বড় ব্যাপার হয়ে যায়। কোন কিছুকে ছোট করে দেখ তাহলেই সেটা সামান্য মনে হবে। জানেন, এই আয়াতে আখিরাতকে বড় এবং দুনিয়াকে ছোট করে দেখানো হয়েছে।পুরো আয়াতটা এটা নিয়েই। দুনিয়াতে আমরা জীবন যাপন করবো। আমাদের ক্যারিয়ার হবে।আমাদের শিক্ষাগত অর্জন থাকবে।আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতেহবে। এই সব কিছুই জীবনে থাকবে।কিন্তু একটা ব্যাপার কি জানো এই সব কিছু ক্ষণস্থায়ী। সব কিছুই। একদিন আসবে যেদিন এক জমায়েত হবে।এবং সেদিন তারা নামায পড়বে। আর সেদিন তারা একটা ঘোষণা দিবে।যে একটা জানাযা হবে। এবং এই ঘোষণাটা একদিন হবে আমার জন্য এবং একদিন হবে আপনার জন্য। এটা হতে যাচ্ছে এবং একদিন মানুষ আমাদের জন্য জানাজার নামায পড়বে। এবং ততক্ষনে আমরা চিরকালের জন্য চলে গেছি। এবং এটা শীঘ্রই ঘটবে, দেরীতে নয়। আমি বলতে চাচ্ছি আমাদের জীবনের অনেকখানি তো ইতোমধ্যেই কেটে গেছে। সুতরাং এমন নয় যে সেই দিনটা থেকে আমরা দূরে যাচ্ছি, বরং আমরা সেই দিনের আরো কাছে পৌছাচ্ছি। তাই যত তাড়াতাড়ি আমরা এটা আত্মস্থ করি যে, আল্লাহর কাছে যা আছে তা তুলনামূলক ভাবে ভালো। কারন যে কোন ভাবেই হোকনা কেন আমরা সেদিকেই যাচ্ছি। তাহলে আমরা নিজেরা নিজেদেরই উপকার করব । যদি আমরা শুধু এটা শিখতে পারি যে কিভাবে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হয়। যেমনটা আমি বললাম যে আমরা ১০ বছরের পরিকল্পনা করি, ১৫ বছরের পরিকল্পনা করি।কিন্তু আমরা আখিরাতের কথা চিন্তাই করিনা। তাহলে আখিরাতের কথা কিভাবে ভাবা উচিত? কিভাবে আখিরাতের জন্য বাস্তবতা ভিত্তিক পরিকল্পনা করা যায়? আখিরাতের জন্য আমরা ১০ বছরব্যাপী, ১৫ বছরব্যাপী পরিকল্পনা করিনা। আমরা এর জন্য দৈনন্দিন পরিকল্পনা করি।এটা দীর্ঘ সময়ব্যাপী লক্ষ্য নির্ধারণ করা নয়। এটা আজকের দিনটা আপনি কিভাবে ব্যয় করলেন তার সাথে সংশ্লিষ্ট। আপনি তার পরে কি করতেযাচ্ছেন এটা তার সাথে সংশ্লিষ্ট। আপনি আগামীকালটা কিভাবে কাটাবেন? আপনি...?

ইসলামিক গল্প(জীবনের উদ্দেশ্য)

সমগ্র মানবজাতি কিসের প্রতি অনুপ্রানিত, কি তাকে আকর্ষণ করে সে বিষয়ে পবিত্র কুরআন খুব ভালভাবেই আলোচনা করে। একাধিকবার আল্লাহ পাক আলোচনা করেন এমন কিছু বিষয়ে, যেমন পুরুষদের মহিলাদের প্রতি আসক্তি, অথবা অর্থের প্রতি আসক্তি, আথবা সামাজিক পদ মর্যাদার প্রতি আসক্তি অথবা মানুষ আশা করে নিজের একটি বাসস্থানের মত সুন্দরকোন জিনিস। তাই মানুষ এগুলো পাওয়ার জন্য কাজ করে, কারন এগুলোর প্রতি তারা প্রবল আসক্তি অনুভব করে। এমনকি আজকালকার দিনেও অনেক যুবক-যুবতীরা হয়ত চায় তাদের ডিগ্রী শেষ করতে অথবা তাদের কর্মক্ষেত্র এগিয়ে যেতে অথবা একটি সম্পর্কের সুত্রপাত করতে চায় যার প্রত্যাশী তারা ছিল। এ সবগুলো বিষয়ই সবসময় বিদ্যমান আছে, সবসময় বিদ্যমান ছিল। এগুলোর একটি আধুনিক রূপ আজকাল বিদ্যমান এবং আরেকটি পুরনো, মানে প্রাক-আধুনিক রূপ আগে বিদ্যমান ছিল। কিন্তু সুনিপুণভাবে কোর’আন ঘোষনা দেয় যে, এগুলো মানুষের প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু নয়। তাই কেউ হয়ত কাজ করে যাচ্ছে নিজেকে বিশেষ আকারে পরিবেশন করার লক্ষ্যে নয়ত কেউ কাজ করে যাচ্ছে অন্য কারো সান্নিধ্য পাওয়ার লক্ষ্যে অথবা কেউ কাজ করে যাচ্ছে অতিরিক্ত কিছু অর্থ উপার্জনের আশায়। এগুলোর কোনটিই আসল লক্ষ্যবস্তু নয়। এগুলো হচ্ছে একটি বৃহত্তর সমাপ্তির মাধ্যম মাত্র এবং সেই সমাপ্তি আমরা আমাদের জীবনে যেসকল ক্ষুদ্র মাইলফলক অর্জন করি তার নির্দেশনা দেয়।প্রকৃতপক্ষে এই জীবন শুধুমাত্র বাস্তব কিছু অর্জন করার জন্যই নয়। অথবা শুধু শারীরিক সুখ অর্জনের জন্য নয়। এই জীবন হচ্ছে সঠিক লক্ষ্যবস্তু স্থির করা সম্পর্কে। সঠিক লক্ষ্যবস্তু পাওয়া যায় তখনইযখন আপনি জীবন যাপন করেন শুধুমাত্র আপনার নিজের অবস্থাকে ভাল করারজন্যই নয় বরং আপনার চারপাশের সবকিছু ভাল করার উদ্দেশ্যে। ইসলাম মানে হচ্ছে নিজের ইচ্ছেগুলোকে আল্লাহর ইচ্ছার নিকট সমর্পন করা, যেন আপনি নিজেকে চিরস্থায়ী সুখের জন্য প্রস্তুত করতে পারেন। এবং এটা করার মাধ্যমে আপনি এসব পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের বিসর্জন দেন না, আপনি এই জীবনও উপভোগ করতে পারবেন।

ইসলামিক গল্প (সবাই সেদিন কৃতকর্মের বিনিময় লাভ করব)

বিচার দিবসে প্রত্যেক ব্যক্তিকে আল্লাহর আদালতে জবাবদিহি করতে হবে। পৃথিবীতে মানুষের কত আপনজন থাকে, শুভাকাংখী থাকে, অসংখ্য পরিচিতজন ও বন্ধু থাকে। একজন বিপদাপন্ন হলে আরেকজন তাকে সাহায্য করতে দৌড়ে আসে। আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা হলে যামিন নিতে গেলে বা হাজিরা দিতে গেলে তার সাথে কেউ না কেউ যায়। কিন্তু আল্লাহর আদালতে সে কাউকে সঙ্গী হিসাবে পাবে না। প্রত্যেক ব্যক্তিকে একাকী জবাবদিহি করতে হবে। তার কৃতকর্মের সাফাই আরেকজন গাইবে, এমনটি সেখানে হবে না। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন- আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,(বিচার দিবসের দিন আদালতে আল্লাহ বলবেন) নাও, এখন তোমরা ঠিক তেমনিভাবে একাকীই আমার সামনে উপস্থিত হয়েছো, যেমন আমি তোমাদেরকেপ্রথমবার একাকী সৃষ্টি করেছিলাম। তোমাদেরকে আমি পৃথিবীতে যা কিছুদান করেছিলাম, তা সবই তোমরা পিছনে রেখে এসেছো। এখন আমি তোমাদেরসাথে সেসব পরামর্শ দাতাগণকেও তো দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা ধারণা করেছিলে যে, তোমাদের কার্যোদ্ধারের ব্যাপারে তাদেরও অংশ রয়েছে। তোমাদের পারস্পরিক সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছে এবং তোমরা যা কিছু ধারণা করতে, তা সবই আজ তোমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গিয়েছে। (সূরা আন’আম-৯৪) পৃথিবীতে মানুষ অসংখ্য সঙ্গী-সাথী জুটিয়ে নেয়। বৈধ-অবৈধ পথে সে সম্পদের পাহাড় রচিত করে তবুও সম্পদ আহরোণের নেশা যায় না। এসব ত্যাগ করে যেতে হবে, সেদিন এসব কোনই কাজে আসবে না। যারা সৎকাজ করেছে অর্থাৎ আল্লাহর বিধান অনুসারে পৃথিবীতে জীবন পরিচালনা করেছে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহকেই রব্ব হিসাবে অনুসরণ করেছে, কেবলমাত্র তাদেরই সঙ্গী হবে তাদের কৃত সৎকাজসমূহ। কোন বিপদ দেখা দিলে বা কোন কামনা-বাসনা পূরণের আশায় মানুষ পীর-দরবেশ-মাজার-ফকিরের কাছে ধর্ণা দিয়ে মনে করতো, এরা তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারে, তার মনের কামনা পূরণকরতে পারে, তাকে ধনবান বানিয়ে দিতে সক্ষম, বিচার দিবসে সুপারিশ করতে সক্ষম, সেদিন তারা কেউ কোন সাহায্য করতে পারবে না। আল্লাহর বিধান থেকে দূরে সরিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে যেসব নেতা-নেত্রীরা মানুষকে ভাতের অধিকার, ভোটের অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তির অধিকারের লোভ দেখিয়ে পরামর্শ দিতো যে, তাদেরকে সহযোগিতা করা হোক, যারা এসব প্রতারণামূলক কথাবার্তায় আকৃষ্ট হয়ে ঐসব নেতা-নেত্রীদের পেছনে ছুটেছে, তাদেরকে যখন আল্লাহর আদালতে উপস্থিত করা হবে, তখন আল্লাহ প্রশ্ন করবেন- তোমাদেরকে যারা পরামর্শ দিতো, তাদেরকে তো আজ দেখা যাচ্ছে না। তারা সবাই আজ সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। মানুষ হিসাবে প্রত্যেক ব্যক্তির একটি স্বতন্ত্র নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। নিজের ব্যক্তিগত পর্যায়ে আল্লাহর সামনে এ জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে। এ ব্যক্তিগত দায়িত্বের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি তার সাথে অংশীদার নেই। পৃথিবীতে যতই অধিক সংখ্যক ব্যক্তিবর্গ, বিপুল সংখ্যকজাতি, দল ও গোষ্ঠী বা বিপুল সংখ্যক সংগঠন একটি কাজে বা একটি কর্মপদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করুক না কেন, বিচার দিবসে আল্লাহর আদালতে তাদের এ সমন্বিত কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যক্তিগত দায়িত্ব পৃথকভাবে চিহ্নিত করা হবে এবং তার যা কিছু শাস্তি বা পুরস্কার সে লাভ করবে তা হবে তার সেই কর্মের প্রতিদান- যা করার জন্য সে নিজে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দায়ী বলে প্রমাণিত হবে। এইনসাফের মানদন্ডে অপরের গর্হিত কর্মের বোঝা একজনের ওপর এবং তার গোনাহের বোঝা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয়ার কোনই সম্ভাবনা থাকবে না।সুতরাং মানুষের জন্য জ্ঞান-বিবেক ও বুদ্ধির পরিচয় হলো এটাই যে, আরেকজন কি করছে সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে নিজের কর্ম কতটুকু গ্রহণযোগ্য, তার দিকে দৃষ্টি দেয়া। যদি তার মধ্যে নিজের ব্যক্তিগত দায়িত্বের সঠিক অনুভূতি থাকে, তাহলে অন্যেরা যাই করুকনাকেন, সে নিজের সাফল্যের সাথে আল্লাহর সামনে যে কর্মধারার জবাবদিহিকরতে পারবে তার ওপরই অটলভাবে দন্ডায়মান থাকা। মহান আল্লাহ বলেন- আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, যে ব্যক্তি সৎপথ অবলম্বন করে, তার সৎপথ অবলম্বন তার নিজের জন্যই কল্যাণকর হয়। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়, তার পথভ্রষ্টতার ধ্বংসকারিতা তার ওপরেই বর্তায়। কোনবোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। (সূরা বনী ইসরাঈল- ১৫) ময়দানে ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এমন কিছু সংখ্যক লোক রয়েছে, যারা মনে করে- ‘আমরা ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত কবুল করে ইসলামের দল ভারী করলাম। কারণ সমাজে আমাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে, লোকজন আমাদেরকে গুরুত্ব দেয়, সম্মান করে, মর্যাদা দেয়।’ এদের মনোভাব এ ধরনের যে, তারা ইসলামী আন্দোলনে শামিল হয়ে যেন ইসলামের প্রতি করুণা করেছে। এরা আন্দোলনে শামিল না হলে, ইসলাম কোনদিনই প্রতিষ্ঠা লাভ করবে না। এধরনের চিন্তা-চেতনা নিয়ে যারা ইসলামী আন্দোলনে শামিল হয়, তাদের অনুধাবন করা উচিত- কেউ আল্লাহর রবুবিয়াত কবুল করে ইসলামী আন্দোলনে শামিল হলে, এতে তার নিজেরই কল্যাণ হবে। অন্য কেউ তার কল্যাণে অংশ নিতে পারবে না। সে সৎপথ লাভ করলো, এ জন্য আল্লাহর দরবারে বার বার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। কেননা আদালতে আখিরাতে তার ব্যাপারে তাকে একাই জবাবদিহি করতে হবে, অন্য কেউ তার অবস্থা পরিবর্তন করে দিতে পারবে না। মহান আল্লাহ বলেন- আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, সেদিন তোমাদের জন্য কোন আশ্রয়স্থল থাকবে না এবং তোমাদের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য চেষ্টাকারীও কেউ থাকবে না। (সূরা আশ শূরা-৪৭)

নামাজ এবং এক দাগীচোরের কাহিনী





যুগের ঘটে যাওয়া কাহিনী থেকে একটি ঘটনার কথা বলছি, এক এলাকায় এক চোর ছিল, সে বয়সে যুবক প্রতিবেশিদের লোটা-ঘটি, বাটি, হাড়ি-পাতিল ইত্যাদি চুরি করতো। এ জন্য সে চোর হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করলো। একদিন সে চিন্তা করলো, এলাকায় যখন দাগীচোরের খেতাব পেলাম, তাই এখনথেকে আমাকে বড় চোর হতে হবে। এবং তা হতে হলে কি করতে হবে? ভেবেচিন্তে ঠিক করলো প্রথমেই রাজার বাড়িতে চুরি করতে হবে। রাজবাড়িতে ঢুকে আড়াল থেকে দেখতে পেলো, রাজা ও রাজকন্যা বসে আলাপ করছেন। শুনতে পেলো রাজা তার মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘মা, তোমার কাছে এত সুন্দর ভালো নামী-দামী পাত্রের প্রস্তাব আসে, তুমি তা একটাও পছন্দ করছো না এর কারণ কী মা, বলো? মেয়েটি পিতার কথা শুনে উত্তর দিলো, ‘আব্বা এইসব পাত্র আমার পছন্দ নয়। রাজা বললেন, কেন মা, তোমার কেমন পাত্র পছন্দ আমার নিকট মন খুলে বলো, তুমি আমার একমাত্র কন্যা। মেয়েটি পিতাকে জিজ্ঞেস করলো, আব্বা আমি আমার পছন্দের কথা বলবো কি? পিতা বললেন, হ্যাঁ মা তুমি বলো। মেয়েটি বললো, আব্বা আপনার রাজ্যে এমন কোন নওজোয়ান পাবেন কি? যে একাধারে চল্লিশটি জুমার নামাজ আদায় করেছে, তাহলে আমি তার সাথে চির বন্ধনে আবদ্ধ হতে রাজি আছি। পিতা বললেন, মা, আমি তোমার জন্য এমন পাত্রই খুঁজে বের করবো। মেয়েটি বললো, পাবেন সত্যি, তবে এটা কোন রাজা-বাদশাহর ছেলে হয়তো হবে না, যদিও পান সে সাধারণ ছেলেই হবে। তবে তাকে যদি আপনার জামাতা বানাতে হয়, তাহলে আপনার সম্পদ থেকে কিছু সম্পদ দিয়ে তাকে সম্পদশালী করে নিতে হবে। পিতা বললো, মা, তুমি আমার একমাত্র কন্যা, যে আমার জামাতা হবে সে-ই তো আমার সকল সম্পদের মালিক হবে। এই কথা শুনে চোর বেটা ভাবতে লাগলো, এই তো আরেকসুবর্ণ সুযোগ। রাজার জামাতা হবে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না, টাকা-পয়সা লাগবে না। শুধু চল্লিশটি জুমা নামাজ পড়লেই রাজকন্যাকে বিয়ে করা যাবে। তাহলে আর এই সুযোগ ছাড়া যাবে না। চোর বেটা রাজবাড়িথেকে বেরিয়ে, সোজা এসে মসজিদের বারান্দায় বসে বসে চিন্তা করতে লাগলো, ‘হায়! জীবনে তো কোনদিন নামাজই পড়ি নাই। আজ কেমন করে নামাজ পড়বো? এই চিন্তা করে করে ব্যাকুল হয়ে পড়লো। ইতিমধ্যে ফজরের আজানের সময় হলো। মুয়াজ্জিন আজান দিল, আজানের পর সে বললো, হে আল্লাহ আমি কীভাবে নামাজ পড়বো? আমাকে রাস্তা দেখাও। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল এক মুসল্লি এসে সুন্নত নামাজ পড়ছে। এরপর আরেক মুসল্লি এসে নামাজে দাঁড়ায়, তার পাশে দাঁড়িয়ে ওই মুসল্লির মতো করে চোরবেটাও নামাজ আদায় করলো। এরপর ইমাম সাহেব নামাজে দাঁড়ালো। চোর বেটাও ফজর থেকে এশা পর্যন্ত এভাবেই জামাতের সাথে নামাজ আদায় করলো।এই থেকে তার নামাজ পড়া শুরু হলো। এভাবে কয়েক দিন যাওয়ার পর, চোরবেটা ইমাম সাহেবকে বললো, হুজুর আমাকে কিছু সুরা কিরাত শিখাবেন? ইমাম সাহেব উত্তর করলেন, আরে ভাই তোমার মত একজনকে নামাজশিখাতে পারলে তো আমার জীবন ধন্য হবে। ইমাম সাহেব তাকে ছাত্র হিসেবে তালিম দিতে শুরু করলেন। এভাবে সুরা কিরাত শিখতে শিখতে সে একজন পূর্ণ মুসল্লিতে পরিণত হলো। এখন সে আর এক ওয়াক্ত নামাজও ক্বাযা করে না, এভাবে দিন মাস বছর কেটে যাচ্ছে। এদিকে রাজা হঠাৎ তার রাজ্যে লোক-লস্কর দিয়ে ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করে দিলেন, এ রাজ্যে এমন কোন নওজোয়ান ছেলে আছে কি, যে একাধারে চল্লিশ জুমা নামাজ আদায় করেছে? যার একটি জুমাও ক্বাযা হয় নাই? তাহলে ওই ছেলের সাথে রাজকন্যাকে বিবাহ দেওয়া হবে। রাজ্যে এমন কেউ থাকলে তিনি রাজ দরবারে উপস্থিত হয়ে রাজকন্যাকে বিবাহের প্রস্তাব দিতে পারেন। এভাবে সমস্ত রাজ্য ঘুরে তারা কোন পাত্রের সন্ধান পাচ্ছিল না, সবশেষ তারা চোর বেটার এলাকায় আসলো তখন এলাকার সর্ব সাধারণ শাহী অ্যালান শুনে বলতে লাগলো, এলাকায় এমন কোন ছেলে নাই তবে, একটি ছেলের সন্ধান আমরা দিতে পারি, সে আমাদের মসজিদেই পড়ে থাকে। আর নামাজ জিকির-আজগার নিয়ে ব্যস্ত থাকে, হয়তো ছেলেটি চল্লিশ জুমা আদায়কারী হতে পারে। তখনই মসজিদে গিয়ে তারা দেখে ছেলেটি আল্লাহর ধ্যানে মশগুল। তারা অপেক্ষা করলো যুবকের ধ্যান ভাঙার জন্য। ধ্যান ভাঙার পর, রাজার ঘোষণাপত্র পড়ে শুনালো। যুবক বললো, আপনারা চলে যানএবং আপনাদের মালিকের গোলামী করেন গিয়ে। আর আমাকে আমার মালিকের গোলামী করতে দেন। আমার কোন রাজকন্যা দরকার নেই। এ কথা বলে যুবক তাদেরকে বিদায় করে দিলো। রাজ দরবারে গিয়ে তারা সব কথা রাজাকে বললো। রাজা শুনে আরো খুশি হয়ে বললেন, এমন ছেলেই তো আমার দরকার। তোমরা যে কোন মূল্যে ছেলেটিকে হাজির করো। নইলে তোমাদের কারো চাকরিথাকবে না। পুনরায় তারা যুবকের কাছে গিয়ে অনুরোধ করে বললো, আপনি যদি রাজ দরবারে না যান তাহলে আমাদের চাকরি থাকবে না। দয়া করে আপনিরাজার সাথে দেখা করেই চলে আসুন। যুবক তাদের অনুরোধে যেতে বাধ্য হলো। রাজ দরবারে গিয়ে প্রথমেই অত্যন্ত আদবের সাথে রাজাকে সালাম দিলেন, তার আদব-ভক্তি শ্রদ্ধা দেখে মুগ্ধ হলেন। এবার রাজা বলতে শুরু করলেন, ‘বাবা, আমার একমাত্র কন্যা, সে কোন রাজা-বাদশাহর ছেলেকে চায় না। সে আমাকে অনুরোধ করেছে, যে একাধারে চল্লিশ জুমা নামাজ আদায় করেছে একটি জুমাও ক্বাযা হয় নাই এমন পাত্রকেই সে বিয়ে করবে। আমি শুনেছি তোমার চল্লিশ জুমার অধিক নামাজ আদায় হয়েছে, তাই তোমার সাথে আমার একমাত্র কন্যার বিবাহের প্রস্তাব করলাম। রাজার কথা শুনে যুবক বললো, হুজুর আমি আপনাকে কিছু কথা বলতে চাই। রাজা বললেন, বলো বাবা। যুবক, হুজুর আপনি যদি আমার আসল পরিচয় জানেন তাহলে আপনার মেে তো দূরের কথা চাকরানীকেও আমার সাথে বিয়ে দিবেন না। আমি এক রাতে আপনার বাড়িতে চুরি করতে এসে গোপনে শুনলাম, আপনি মেয়ের সাথে এ বিয়ের ব্যাপারে আলাপ করছেন। এবং ওই দিন থেকেই আমি নামাজ পড়া শুরু করি। হুজুর বেয়াদবি মাফ করবেন চল্লিশটি জুমার বিনিময়ে যদি রাজার মেয়েকে বিয়ে করা যায়, তাহলে আরও চল্লিশটি জুমারনামাজ আদায় করলে জান্নাতের হুর পাওয়া যাবে। দয়া করে আমাকে মাফ করবেন। আপনি অন্য কোথাও আপনার মেয়েকে বিবাহ দেন। আল্লাহর কি মেহেরবানি ছেলেটি নামাজ-জিকির ও ধ্যান করে করে খাঁটি ঈমানদার হয়ে আল্লাহর অলিত্ব লাভ করলো। অথচ একদিন যে ব্যক্তি রাজকন্যাকে পাওয়ারলোভে নামাজ ধরেছিল, আজ নামাজ-ই তাকে সেই রাজকন্যা ও রাজ্যের লোভ থেকে ফিরিয়ে আনলো আল্লাহর প্রেমিক করে। আল্লাহতায়ালা ইচ্ছা করলে কি না পারেন। এ দুনিয়ায় ভোগ-বিলাসীতার ব্যাপক বিস্তার তবুও তা ক্ষণিকের, এই সামান্য সময়ের মধ্যে ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকার কারণে, যদি মৃত্যুর পরে অনন্তকাল সাজা খাটতে হয় তবে, ভোগের চেয়ে সংযোম ধারণ করাই ভালো। আমার প্রাণপ্রিয় মুর্শিদ খাজাবাবা কুতুববাগী কেবলাজানও মানুষদের এমনই সহ্-িশুদ্ধভাবে হুজুরি দিলে নামাজ আদায় করার নিয়ম-পদ্ধতি শিক্ষা দিয়ে থাকেন। যে নামাজে প্রকৃত শান্তি আসে। মহান আল্লাহ যেন আমাদের ঐ যুবকের মতো সহ্-িশুদ্ধ নামাজি হিসেবে কবুল করেন, আমিন। লেখক : সম্পাদক মন্ডলির সদস্য, মাসিক আত্মার আলো ॥ চেয়ারম্যান, আল জয়নাল গ্রুপ, নারায়ণগঞ্জ ॥ বিশিষ্ট খাদেম, কুতুববাগ দরাবার শরীফ

বিসমিল্লাহ বলার ফজিলত

বিছমিল্লাহ বলার ফজিলত! বর্ণিত আছে যে, কোন এক মহিলার স্বামী ছিল মুনাফেক। সে মহিলার অভ্যাস ছিল প্রতিটি জিনিসের পূর্বে সে"বিসমিল্লাহ" পড়তো, হউক তা কাজ বা কথা । একদিন তার স্বামী বলল (মনে মনে চিন্তা করল) , আমি এমন একটি কাজ করব যা দ্বারা আমি তাকে"বিসমিল্লাহ" বলার ক্ষেত্রে লজ্জিত করবো । অতএব, তার কাছে একটি থলে দিল এবং তাকে বলল , তুমি এটাকে হেফাজত করে রাখ ।ঐ মহিলাটি থলেটি কে এক জায়গায় লুকিয়ে রাখলো, সুযোগ বুঝে এক সময় তার স্বামী থলেটি নিয়ে নিল এবং থলেটিকে তার বাড়ির কূপে ফেলে দিল । অতঃপর স্ত্রীর নিকট এসে থলেটি ফেরত চাইল । মহিলাটি যথাস্থানে এসে"বিসমিল্লাহ" বলে হাত বাড়িয়ে দিল । আল্লাহ তায়ালা হযরত জিবরাঈল(আঃ) কে তৎক্ষণাৎ অবতরণের আদেশ প্রদান করলেন এবং থলেটিকে তার স্থানে পূর্বের ন্যায় রেখে দিতে বললেন । অবশেষে সে তা যেভাবেরেখেছে সে ভাবেই পেল । তার স্বামী আশ্চর্যান্বিত হয়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে তওবা করে ক্ষমা চাইল। সুবাহানাল্লাহ।। [কিতাবুল কালয়ুবি ঘটনা নং ১১,পৃষ্ঠা নং ৪৫]

মক্কা শরীফের মাটি দিয়ে তৈরি যে মসজিদ


ইবাদতের শ্রেষ্ঠ স্থান মসজিদ। বর্তমান বিশ্বের বহু মসজিদে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তবে পবিত্র মক্কা নগরীর মাটি দিয়ে তৈরি মসজিদ এইউপমহাদেশে কিন্তু একটাই। নাম মক্কা মসজিদ। এটি পবিত্র নগরী মক্কারকোনো মসজিদ নয়। আলোচিত এই মসজিদটি আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদ জেলায় একটি অবস্থিত। মসজিদটির মূল ভবনের ইট তৈরির জন্য মাটি আনা হয় সৌদি আরবের মক্কা থেকে। তাই মসজিদটির নাম রাখা হয়েছে ‘মক্কা মসজিদ’। মসজিদটি ভারতের বৃহৎ ও প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম এবং ঐতিহাসিক পুরাতন হায়দ্রাবাদ শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। কুতুব শাহি সাম্রাজ্যের পঞ্চম শাসক মোহাম্মদ কুলি কুতুব শাহ মসজিদটি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মসজিদটি শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং পুরো শহরের পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনি। মসজিদটির সামনের খিলানগুলো গ্রানাইডের টুকরা দিয়ে নির্মিত। এগুলো নির্মাণে সময় লেগেছে পাঁচ বছর। মসজিদটিনির্মাণে পাঁচ হাজার শ্রমিক অংশ নেন। মসজিদটির ভিত্তি স্থাপন করেনমোহাম্মদ কুলি কুতুব শাহ। পরে মুঘল বাদশাহ আওরঙ্গজেব হায়দ্রাবাদ জয়ের পর মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করেন। মসজিদের প্রধান নামাজ কক্ষটির দৈর্ঘ্য ১৮০ ফুট। প্রস্থ ২২০ ফুট আর উচ্চতা ৭৫ ফুট। একসাথে ১০ হাজার মুসল্লি এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটির প্রধান নামাজকক্ষটির ছাদ স্থাপন করা হয়েছে ১৫টি খিলানের ওপর। এই ১৫টি খিলান সাজানো হয়েছে তিনটি সারিতে। প্রতিটি সারিতে রয়েছে পাঁচটি করে খিলান। মসজিদের প্রধান স্থাপনা দু’টি বিশাল অষ্টাভুজাকৃতির কলাম দ্বারা সংগঠিত। প্রতিটি কলাম তৈরি করা হয়েছে একটিমাত্র গ্রানাইডের টুকরা দিয়ে। মসজিদের মূল ভবনের ছাদের চার দেয়ালের বাইরের অংশ গ্রানাইড ব্লক দিয়ে আবরণ দেয়া। মসজিদটির কাছেইঐতিহ্যবাহী চৌমহল্লা, লাদ বাজার ও চারমিনার অবস্থিত। এই মসজিদের স্থাপনার সঙ্গে ঐতিহাসিক চারমিনার ও গোলকন্দা দুর্গের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মসজিদ এলাকায় প্রবেশ দরজায় কোনাকুনি আকৃতির একটি দালানআছে। যেখানে মার্বেল পাথরের আবরণকৃত কিছু কবর আছে। এই স্থাপনাটি তৈরি করা হয় আসাফ জহির শাসনামলে। এই ভবনে বাদশা নিজাম ও তার পরিবারের সদস্যদের মাজার বিদ্যমান। মক্কা মসজিদটি ভারতের প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। দীর্ঘদিন এটা রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং দুষণের ফলে এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার অনেক অংশ নষ্ট হয়ে যায় ও ভেঙে যায়। ১৯৯৫ সালে এই স্থানে রাসায়নিক বিক্রিয়া সংগঠিত হয়। তাই ভবিষ্যতে এই স্থাপনাটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা জন্য অন্ধ্র প্রদেশ সরকার ২০১১ সালের আগষ্ট থেকে যানবাহনমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে।

ইসলামিক গল্প(দরুদ শরীফের ফজিলত)




একদা একটি মহিলা হযরত হাসান বসরী (রঃ) এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বলল, কিছুদিন হয় আমার একটি যুবতী মেয়ে মারা গেছে, সেজন্য আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত। আমাকে এমন একটি তদবির বলে দিন যাতে আমি তাকে স্বপ্নে দেখতে পারি। অতঃপর হযরত হাসান বসরী (রঃ) তাকে তদবির বলে দিলেন। মহিলাটি সে অনুযায়ী আমল করার পর একদিন দেখতে পেল যে তার কন্যাটি আলকাতরার পোষাক পরিহিতা, গলায় লোহার জিন্জির পড়ানো ও পায়েবেড়ি লাগানো আছে। মহিলা এ কথা হযরত হাসান বসরী (রঃ)কে জানালে তিনি চিন্তান্বিত ও দুঃখিত হলেন। এভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হলে হযরতহাসান বসরী (রঃ) নিজে সে কণ্যাটিকে স্বপ্নে দেখেন যে, সে বেহেশতেপদচারনা করছে এবং মাথায় বেহেশতি তাজ। মেয়েটি তখন হযরত হাসান বসরী (রঃ) কে বলল, হে হাসান। আপনি কি আমাকে চিনতে পারেন নাই ? আমি সে মহিলাল কন্যা, যে আমাকে স্বপ্নে দেখার জন্য তদবির নিয়েছিল।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, পূর্বে তো তোমার এরূপ অবস্থা ছিল না। কিভাবে তোমারপূর্বাবস্থা পরিবর্তন হলো এবং তুমি এ পর্যায়ে উন্নীত হলে- এর কারনকি? সে বলল, এর কারন হচ্ছে এই যে, একদা এক ব্যক্তি আমার কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হুজুর সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের প্রতি দরুদ শরীফ পাঠ করেছে। তখন কবরস্থানের পাঁচ ব্যক্তির উপর গোর আযাব হচ্ছিল। সেই পথিক লোকটির দরুদ শরীফ পাঠ করার পর আমরা একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। তাতে বলা হচ্ছে - এই ব্যক্তির বরকতে এদের উপর থেকে আযাব উঠিয়ে নাও। অদঃপর তৎক্ষনাত আমাদের আযাব বন্ধ হয়ে গেল। মুকাশাফাতুল কুলুব-ইমাম গাজ্জালী (রঃ)।